বিজ্ঞাপনটা সহজ ছিল। কম্পিউটার অপারেটর, ডেটা এন্ট্রির কাজ, কম্বোডিয়ায়। মাসে আশি হাজার টাকা।
সিরাজগঞ্জের তোফায়েল আহমেদ যেতে দিয়েছিলেন সাত লাখ টাকা। প্রায় দুই মাস খেটে দেশে ফিরেছেন আটান্ন হাজার টাকা নিয়ে। দ্বিতীয় মাসের বেতনটা আর পান নাই।
গত দেড় বছরে এই কাজের খোঁজে কম্বোডিয়ায় গেছেন কতজন, সরকারের কাছেও তার হিসাব আছে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো, বিএমইটির খাতায়, গত দেড় বছরে কাজ নিয়ে কম্বোডিয়ায় গেছেন পনেরো হাজার নয়শো একুশ জন।
তাদের মধ্যে চার-সাড়ে চার হাজার মানুষের ভিসার মেয়াদ শেষ, তবু কম্বোডিয়াতেই আছেন।
আর হাজারের বেশি মানুষ আটকা পড়ে আছেন এমন জায়গায়, যার নাম স্ক্যাম কম্পাউন্ড। প্রতারণার কারখানা।
➖
কাজের নামগুলো শুনতে ভদ্র। কম্পিউটার অপারেটর, ডেটা এন্ট্রি, কাস্টমার সার্ভিস, ফ্যাক্টরির কর্মী।
প্রতিশ্রুত বেতনের অঙ্কও ভদ্র। ঢাকার মিরপুরের শফিকুল ইসলাম হৃদয়কে বলা হয়েছিল মাসে আটশো ডলার, ডেটা এন্ট্রির কাজ।
দালালের সঙ্গে তোফায়েলের প্রথম দেখা হয়েছিল গত এপ্রিলে, বিমানবন্দরের হাইওয়ের ওপারে এক চায়ের দোকানে। লিখিত চুক্তি বলতে কিছু নাই, ইন্টারভিউ নাই।
খবরটাও আসে খুবই বিশ্বস্ত পথে। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হিসাবে, চারজনের তিনজন কাজের খোঁজ পেয়েছেন আত্মীয়, বন্ধু বা প্রতিবেশীর কাছ থেকে।
যাওয়ার দামটাও তেমনই, বড়। তোফায়েল দিয়েছেন সাত লাখ টাকা। মানিকগঞ্জের তালাত মাহমুদ পাঁচ লাখ।
লক্ষ্মীপুরের এক তরুণ পাঁচ লাখ ত্রিশ হাজার। গোপালগঞ্জের আবদুল্লাহ মোল্লা পাঁচ লাখ ষাট হাজার, শুধু পৌঁছানোর জন্য।
হাতে যে কাগজ ধরিয়ে দেওয়া হয়, তার সঙ্গে কাজের মিল নাই। তোফায়েলকে দেওয়া হয়েছিল নির্মাণশ্রমিকের ভিসা, কথা ছিল কম্পিউটারের কাজ।
ফরিদপুরের আল আমিন পেয়েছিলেন ট্যুরিস্ট ভিসা, দালাল বলেছিল কাজের ভিসা।
এত অমিল সরকারের চোখ এড়িয়ে যায় কীভাবে, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের এক অনুসন্ধানে সেই ফাঁকটার কারণ পাওয়া যায়।
কারণটা হল, নিয়মে ছাড় আছে, পাঁচজন পর্যন্ত কর্মী দূতাবাসের সত্যায়ন ছাড়াই বিদেশ যেতে পারেন।
ছোট ‘চালান’, তাই যাচাই লাগে না। সিন্ডিকেট বড় চালানকে পাঁচ-পাঁচ জনে ভেঙে ফেলে।
কর্মকর্তাদের নিজেদের হিসাবেই, সত্তর থেকে পঁচাত্তর ভাগ কর্মী বিদেশ গেছেন এই ছোট-চালানের পথ ধরে।
বিএমইটির এক কর্মকর্তার জবাবটাও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ছাপিয়েছে। কেউ যদি একটা দেশে গিয়ে সেখান থেকে অন্য জায়গায় পালিয়ে যায়, আমাদের কী করার আছে।
সরকার কম্বোডিয়ার ভিসায় কড়াকড়ি শুরু করার পর দালালরা পথ বদলেছে।
ডেইলি স্টার লিখছে, এখন চলছে ভুয়া বিএমইটি কার্ড, আর থাইল্যান্ড ঘুরে ঢোকার নতুন রুট। ঢাকা থেকে ব্যাংকক, দুই ঘণ্টার যাত্রাবিরতি, তারপর নমপেন।
➖
পৌঁছানোর পর প্রথম যে জিনিসটা হাতছাড়া হয়, সেটা পাসপোর্ট।
কম্পাউন্ডগুলো ছোটখাটো শহর। জাতিসংঘের হিসাবে কোনো কোনোটা পাঁচশো একরের বেশি, ভেতরে ডরমিটরি, দোকান, ক্যান্টিন, সব আছে।
নাই শুধু বের হওয়ার পথ। ফেরত আসা মানুষেরা ডেইলি স্টারকে বলেছেন কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ফটকের কথা।
ভেতরে বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, নেপালি, ভুটানি ও দক্ষিণ ভারতের লোক।
কাজটা কী, আল আমিন নিজের মুখে বলেছেন। একজন নম্বর জোগাড় করত, একজন কথা বলত, একজন তথ্য নিত, শেষে সেটা যেত হ্যাকারের কাছে।
কথা বলার লোকটা সাজত নারী। নকল ছবি, নকল পরিচয়। শিকার সাধারণত দূরের কেউ, বয়স্ক, অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকান।
সম্পর্ক গড়তে লাগে সপ্তাহ, কখনো মাস। তারপর ভুয়া বিনিয়োগের প্রস্তাব, ব্যাংকের তথ্য। এভাবে একপর্যায়ে অ্যাকাউন্ট শূন্য করে দেওয়া।
দিনে আট ঘণ্টা কাজের কথা ছিল। আল আমিন কাজ করতেন বারো থেকে ষোলো ঘণ্টা। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর বলছে, কোথাও কোথাও উনিশ ঘণ্টা পর্যন্ত।
হাতিয়ারও বদলাচ্ছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তর ইউএনওডিসির হিসাবে, দুই হাজার চব্বিশের প্রথম ছয় মাসেই এই অঞ্চলের অপরাধী চক্রগুলোর মধ্যে ডিপফেক নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে ছয় গুণের বেশি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বানানো নকল মুখ, নকল কণ্ঠ। সংস্থাটার ভাষায়, চক্রগুলো এখন প্রতারণার সরঞ্জাম ভাড়াও দেয়, পরিষেবার মতো করে।
➖
দৈনিক লক্ষ্য পূরণ না হলে মারধর চলে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে ফেরত আসা কর্মীরা বলেছেন, বিদেশিদের ঠকাতে না পারলে জোটে লাঠি বা ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন।
তোফায়েলকে মারা হতো হকিস্টিক দিয়ে। এক মাস সাতাশ দিন আটকা ছিলেন তিনি।
তালাতকে তারা জানিয়ে দিয়েছিল তার দাম, তিন হাজার ডলার। আল আমিনের দাম পনেরোশো।
তোফায়েলকেও জানানো হয়েছিল তার দাম। “ওরা বলল আমাকে দুই হাজার ডলারে কেনা হয়েছে, তারপর আর ছাড়ল না।”
কথাটা আসলে আক্ষরিক, মানুষ বেচাকেনা হয়।
ছাড়া পেতে হলেও বড় দাম দেওয়ার নজির আছে। আল আমিনদের পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার আগে মাথাপিছু আরও পাঁচশো ডলার চাওয়া হয়েছিল।
হৃদয়কে সতেরো দিন অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হয়, প্রথম তিন দিন চলে মারধর আর শক। ছাড়া পান প্রায় দুই হাজার নয়শো ডলারে।
সব মিলিয়ে তার পরিবারের খরচ প্রায় নয় লাখ টাকা।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এই কারখানাগুলো নিয়ে পুরো একটা প্রতিবেদন ছাপিয়েছে গত ফেব্রুয়ারিতে।
সাক্ষাৎকার দেওয়া প্রত্যেক ভুক্তভোগী নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন। পানিতে চুবিয়ে রাখা, অন্ধকারে একা আটকে রাখা। নারীদের ওপর ধর্ষণ, জোর করে গর্ভপাত।
ওই প্রতিবেদনেই একটা লাইন আছে বাংলাদেশিদের নিয়ে। এক বাংলাদেশি জানিয়েছেন, তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সহবন্দিদের পেটাতে।
➖
জুন থেকে কম্বোডিয়া ফেরত বাংলাদেশি পাঁচশো তিরাশি জন। পয়লা জুলাই থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে শাহজালালে নামেন আরও একশো নয়জন।
জুনের মাঝামাঝি চার দিনেই ফিরেছিলেন দুইশো একুশ জন। এক দিনে আটাত্তর জন।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেছেন, চার দিনে দুইশো একুশ জনের ফেরাটাই বলে দেয় সমস্যাটা কত বড়।
বিমানবন্দরে ব্র্যাকের লোক অপেক্ষায় থাকে, হাতে জরুরি সহায়তা। তারপর যে যার বাড়ি।
বাড়িতে যাওয়ার পর তাদের সামনে নতুন হিসাব হাজির হয়। যাওয়ার খরচ পাঁচ থেকে সাত লাখ। মুক্তিপণ আরও কয়েক লাখ।
আবদুল্লাহ মোল্লার পরিবার তার ফেরার জন্যই দিয়েছে দুই লাখ টাকা। আট মাস বিদেশে থেকে কাজ করেছেন দুই মাসের কম। ফিরেছেন ঋণ নিয়ে, কাজ ছাড়া।
➖
এতগুলো মানুষ, এত টাকা, এত সাক্ষী। সেই তুলনায় মামলার সংখ্যা কত?
সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের হিসাব সরল। কয়েকজন সন্দেহভাজন ধরা পড়েছে, তদন্ত চলছে, তবে ফেরত আসা মানুষের সংখ্যার তুলনায় মামলার সংখ্যা খুবই কম।
কম কেন, তার উত্তরও ফেরত আসা মানুষদের কাছেই।
বেশিরভাগ মানুষ মামলায় যান না। দালালের সঙ্গে দরদাম করে টাকা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করেন। মামলা করলে সে পথটাও বন্ধ হয়ে যায়।
এজেন্সির নামগুলোও এমনকি পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখেছে ফাহিম রিক্রুটিং এজেন্সির কথা, এক বছরে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়েছে প্রায় দুইশো কর্মী।
মালিক সৈয়দ মুর্তজা আলী পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, বলেছেন, বিএমইটিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন মাত্র তিনজন।
ডেইলি স্টারে এসেছে ফকিরাপুলের পুষ্পিতা ওভারসিজের নাম, তোফায়েলের টাকাটা নিয়েছিল তারা।
দুইটা এজেন্সির কারোরই শাস্তির খবর পাওয়া যায় নাই।
সরকার তিনটা এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছে ঠিকই, তবে সেটা অন্য কেলেঙ্কারিতে, রাশিয়ায় যুদ্ধে লোক পাঠানোর ঘটনায়।
কম্বোডিয়ার ঘটনায় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কম্বোডিয়া, লাওস আর ভিয়েতনামের ভিসা যাচাই কড়া করার ঘোষণা দিয়েছে, বলেছে এই দেশগুলোর ছাড়পত্রে এখন থেকে পুরো যাচাই বাধ্যতামূলক।
আইনটা অবশ্য আগে থেকেই ছিল। মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, দুই হাজার বারো সালের।
আইনে লেখা আছে, বিচার শেষ করতে হবে একশো আশি দিনে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড লিখছে, একটা মামলাও কোনোদিন এই সময়ে শেষ হয় নাই।
ব্র্যাকের হিসাবে, দুই হাজার বারো থেকে দুই হাজার একুশ পর্যন্ত এই আইনে মামলা হয়েছে পাঁচ হাজার সাতশো আটত্রিশটা। সাজা হয়েছে ছত্রিশটায়। শতকরা একটারও কম।
➖
দালালের ওপরে এজেন্সি, এজেন্সির ওপরে সিন্ডিকেট। সিন্ডিকেটের ওপরে যারা, তাদের নামও এখন অজানা না।
গত অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযুক্ত করেছে চেন ঝি নামের সাঁইত্রিশ বছরের এক ব্যবসায়ীকে, কম্বোডিয়ার প্রিন্স হোল্ডিং গ্রুপের চেয়ারম্যান।
বিচার বিভাগের ভাষায়, এশিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধ-সংগঠনগুলোর একটা, যারা কম্বোডিয়াজুড়ে জোরজবরদস্তির শ্রমে প্রতারণার কারখানা চালাত।
তার কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে সোয়া লাখ বিটকয়েন, তখনকার দামে প্রায় দেড় হাজার কোটি ডলার। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টো-জব্দগুলার একটা।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কম্বোডিয়ায় তিপ্পান্নটা প্রতারণা-কেন্দ্র চিহ্নিত করেছে, শুধু সিহানুকভিল শহরেই বাইশটা।
দেশটার এই ‘শিল্পে’ কাজ করে অন্তত এক লাখ মানুষ।
চেন ঝি ধরা পড়ার খবরে সিহানুকভিলে যা ঘটেছিল, সেটা সংবাদমাধ্যমে ছবির মতো বর্ণনা করা আছে।
শত শত মানুষ সুটকেস, কম্পিউটার মনিটর, আসবাব, এমনকি পোষা প্রাণী টেনে নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে, অভিযানের কয়েকদিন আগেই।
এক বিশ্লেষকের ভাষায়, অপরাধ-দমনের নাটক।
মিয়ানমারের ছবিটা আরও খোলামেলা। থাই সীমান্তের মোয়েই নদীর ধারে কেকে পার্ক নামের কারখানা-শহর চলত কারেন মিলিশিয়ার পাহারায়, পেছনে চীনা সিন্ডিকেটের টাকা।
অপরাধ-অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ওসিসিআরপির হিসাবে, গত অক্টোবরে অভিযানের সময় সেখান থেকে গ্রেপ্তার হয় দুই হাজার একশো আটানব্বই জন, জব্দ হয় ত্রিশটা স্টারলিংক রিসিভার।
বিদ্যুৎ আর ইন্টারনেট কেটে দিলেও কারখানা যাতে না থামে, ব্যবস্থা ছিল স্যাটেলাইটের।
আর লাওসের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল অঞ্চলের ক্যাসিনো-সাম্রাজ্য যিনি চালান, সেই ঝাও ওয়েইকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ দপ্তর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রেখেছে দুই হাজার আঠারো সাল থেকে, মানবপাচার আর মাদকের টাকার অভিযোগে।
দুই হাজার চব্বিশের ডিসেম্বরে লাওস সরকার তাকে দিয়েছে জাতীয় উন্নয়ন পদক।
➖
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট গত মে মাসে প্রতারণাটা কীভাবে হয় তা বিস্তারিত ছাপিয়েছে।
প্রথমে এক ব্যক্তিকে ডাকা হয় জুম বৈঠকে। স্ক্রিনে স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং, প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের গোপন আলোচনা।
এই সবগুলো মুখ ডিপফেক। এই নকল মুখের খপ্পরে পড়ে ব্যক্তিটি হারিয়েছেন আটত্রিশ লাখ ডলার, টাকায় প্রায় পঁয়তাল্লিশ কোটি।
বাংলাদেশেও নকল মুখগুলো পৌঁছে গেছে।
ডেইলি স্টারের অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে ফেসবুকে জুয়ার অ্যাপের বিজ্ঞাপন-নেটওয়ার্ক, নয়টা ডিপফেক ভিডিও, একশো চল্লিশের বেশি বিজ্ঞাপন। সময় টিভি আর চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের খবরের মতো করে বানানো ভুয়া ক্লিপ।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নকল মুখ দিয়ে বলানো হয়েছে তিনি অনলাইন ক্যাসিনো বৈধ করে দিয়েছেন।
বাদ যান নাই সাকিব আল হাসান, মাশরাফি।
➖
কারখানায় ‘কাঁচামাল’ যায় অনেক দেশ থেকে। ফেরানোর ধরনে অবশ্য দেশে দেশে ফারাক আছে।
ভারত মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্ত থেকে এক দফাতেই ফিরিয়ে এনেছে পাঁচশো ঊনপঞ্চাশ নাগরিক, নিজের বিমানবাহিনীর উড়োজাহাজ পাঠিয়ে।
ফিলিপাইন ফিরিয়েছে দুইশোর বেশি। দেশটার কর্মকর্তারা একটা নতুন কথা বলছেন, এখন যারা ফাঁদে পড়ছেন তারা মধ্যবিত্ত, শিক্ষিত, বেকার নন।
নেপালের শত শত মানুষ এখনো কম্বোডিয়ার কম্পাউন্ডে আটকা, কাঠমান্ডু পোস্ট লিখছে নিয়মিত।
কারখানাগুলোতে কাজ করে তিন লাখের বেশি মানুষ, শিকার ছেষট্টিটা দেশের। যুক্তরাষ্ট্রের ইনস্টিটিউট অব পিসের হিসাবে বছরে আয় ছয় হাজার চারশো কোটি ডলার।
শুধু গত বছরেই এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলের মানুষ এই প্রতারণায় হারিয়েছে এগারো হাজার কোটি ডলারের বেশি, দুই বছরে অঙ্কটা অন্তত তিন গুণ হয়েছে।
মিয়ানমার, কম্বোডিয়া আর লাওস মিলিয়ে হিসাবটা আরও সোজা। এই তিন দেশে প্রতারণার অর্থনীতির আকার তাদের বৈধ অর্থনীতির প্রায় চল্লিশ ভাগের সমান।
আল আমিন যাদের ঠকাতেন, তারা ছিলেন দূর দেশের বৃদ্ধ মানুষ, যাদের তিনি কখনো দেখেন নাই।
আল আমিন নিজেও বিক্রি হয়েছিলেন, পনেরোশো ডলারে।
বিজ্ঞাপনটা এখনো আছে। কম্পিউটার অপারেটর, ডেটা এন্ট্রির কাজ, কম্বোডিয়ায়, মাসে আশি হাজার টাকা।
তথ্যসূত্র
লিংক সমূহ:
তোফায়েল, তালাত ও আল আমিনের জবানবন্দি; বিএমইটির হিসাব; পুষ্পিতা ওভারসিজ (ডেইলি স্টার)
https://www.thedailystar.net/…/how-bangladeshi…
শফিকুল ইসলাম হৃদয় ও আবদুল্লাহ মোল্লার ঘটনা (ঢাকা ট্রিবিউন)
https://www.dhakatribune.com/…/how-bangladeshi…
ছোট-চালানের ফাঁক, বিএমইটি কর্মকর্তার বক্তব্য, ফাহিম রিক্রুটিং এজেন্সি (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)
https://www.tbsnews.net/…/scams-smuggling-battlefields…
চার দিনে ২২১ জনের ফেরা, ব্র্যাকের বক্তব্য (ঢাকা ট্রিবিউন)
https://www.dhakatribune.com/…/221-bangladeshis-return…
মানব পাচার মামলায় সাজার হার (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড)
https://www.tbsnews.net/…/less-1-human-trafficking…
জুয়ার অ্যাপের ডিপফেক বিজ্ঞাপন, ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধান (ডেইলি স্টার)
https://www.thedailystar.net/…/deepfake-videos-exploit…
জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের প্রতিবেদন, ফেব্রুয়ারি ২০২৬
https://news.un.org/en/story/2026/02/1167012
https://www.ohchr.org/…/tra…/report-a-wicked-problem.pdf
ডিপফেক-তৎপরতা ৬০০% বৃদ্ধি (ইউএনওডিসি)
https://www.unodc.org/…/cyberfraud-industry…/story.html
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রতারণা-সেবা নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
https://news.un.org/en/story/2026/03/1167144
চেন ঝি ও প্রিন্স গ্রুপ (যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ)
https://www.justice.gov/…/chairman-prince-group…
সিহানুকভিলের পলায়ন-দৃশ্য, অ্যামনেস্টির হিসাব (এএফপি/মালয় মেইল)
https://www.malaymail.com/…/fraudsters-flee…/206163
কেকে পার্কে অভিযান, ৭০ হাজার ফেরত (ওসিসিআরপি)
https://www.occrp.org/…/myanmar-says-it-repatriated…
কেকে পার্কের অবস্থান ও মিলিশিয়া-পাহারা (এইচডিএফএফ)
https://hdff.org/kk-park-one-of-southeast-asias-largest…/
সিঙ্গাপুরের ডিপফেক জুম প্রতারণা (সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট)
https://www.scmp.com/…/how-victim-lost-us38-million…
বছরে ৬৪ বিলিয়ন ডলার, জিডিপির ৪০ ভাগ (ইউএসআইপির হিসাব)
https://therecord.media/southeast-asian-scam-syndicates…
এক বছরে ১১৪ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি (ইউএনওডিসি)
https://www.scmp.com/…/asia-pacific-cyberscam-victims…
ভারতের ৫৪৯ নাগরিক ফেরত (ডেকান হেরাল্ড)
https://www.deccanherald.com/…/india%2Findia-rescues…
ফিলিপাইনের ফেরত ও বদলে যাওয়া শিকার (আরব নিউজ)
https://www.arabnews.com/node/2595984/world
কম্বোডিয়ায় আটকা নেপালিরা (কাঠমান্ডু পোস্ট)
https://kathmandupost.com/…/hundreds-of-nepalis-still…
ঝাও ওয়েইয়ের পদক (রেডিও ফ্রি এশিয়া)
https://www.rfa.org/…/12/12/laos-cambodia-dubious-awards/
ঝাও ওয়েইয়ের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা (ভিওএ)
https://www.voanews.com/…/un-warns-of…/6762228.html