সেউতা শহরটা আফ্রিকা মহাদেশে, মরক্কোর উপকূলে। চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে মরক্কো, অথচ শহরটা স্পেনের।
কাছেই আরেকটা আছে, মেলিয়া। ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত যেটা আফ্রিকার মাটিতে, সেটা এই দুই শহরেই।
গত ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার, এই সেউতায় নামল সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিবাসী-ঢল। এক দিনেই মরক্কো থেকে ঢুকে পড়ল প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ।
কেউ সাঁতরে, কেউ উপকূল ঘুরে, কেউ হেঁটে।
একে বলা চলে সবুজ পদযাত্রার দ্বিতীয় সংস্করণ।
১৯৭৫ সালে মরক্কো ঠিক এভাবেই হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে সামনে ঠেলে দিয়ে পশ্চিম সাহারায় ঢুকে পড়েছিল, আর ভূখণ্ডটা আর ছাড়েনি।
তারা সৈন্য বা বন্দুকধারী কেউ না, নাগরিক, ভিড়। বলপ্রয়োগে তাদের ঠেকানো যায় না, ফেরতও পাঠানো যায় না সহজে।
এই ঢল নিজে নিজে নামে নাই। মরক্কোয় রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদের অজান্তে কিছু হয় না। ওই দিনটাই ছিল তার সিংহাসনে বসার সাতাশ বছর পূর্তি, রাষ্ট্রীয় উৎসবের দিন।
সেদিনই হাজার হাজার তরুণ দল বেঁধে সীমান্তে গেল, আর রাজা কিছুই জানলেন না, এটা বিশ্বাস করা কঠিন।
মরক্কোর রাজধানী রাবাতের চালটা ক্যারমের কাট শটের মতো, যেখানে এক ধাক্কায় ঘুঁটি কয়েক দিকে ছোটে।
প্রথমত, স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেসের সরকারকে মনে করিয়ে দেওয়া, দক্ষিণের এই প্রতিবেশী চাইলে স্পেনকে নাড়িয়ে দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সেউতা আর মেলিয়া আসলে মরক্কোরই, এই বয়ানটা আরও ছড়িয়ে দেওয়া।
তৃতীয়ত, দেখিয়ে দেওয়া যে আমেরিকান বন্ধু পাশে আছে। কাজেই গায়ে আঁচড়টাও লাগবে না।
স্পেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য, সামরিক জোট ন্যাটোরও। কোনোটাই কাজে আসলো না।
যুদ্ধ না বাধিয়ে একটা রাষ্ট্র যখন আরেকটার ওপর এভাবে পরিকল্পিত চাপ তৈরি করে, ইউরোপে তাকে বলা হয় হাইব্রিড হুমকি। কেউ কথাটা মুখে আনল না।
আনলে মিত্রদের স্পেনের পাশে দাঁড়াতে হতো। উল্টো ইউনিয়ন থেকে দাবি উঠল, স্পেন যেন ইউরোপের সীমান্তটা ঠিকঠাক সামলায়।
➖
সংকট চলছে, আর তার পরদিনই, ৩১ জুলাই, জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন এক্স-এ এই প্রসঙ্গে লিখলেন।
স্পেন তো অন্যকে জ্ঞান দিতে ওস্তাদ। আফ্রিকায় “ঔপনিবেশিক ছিটমহল” কেন ধরে রেখেছে, আগে সেটা দুনিয়াকে বুঝিয়ে বলুক।
ওই পোস্টে একটা বড় ভুলও ছিল। ড্যানন লিখেছিলেন, স্পেন জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। করেনি।
সেউতার নিজের প্রশাসন ঘোষণার আবেদন জানিয়েছিল বটে, কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তা নাকচ করে দেয়।
ঘণ্টা দশেকের মধ্যেই মাদ্রিদে ইসরায়েলের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জানিয়ে দেন, ড্যাননের ওই কথা ইসরায়েল রাষ্ট্রের অবস্থান নয়।
ভুলটা বড় কথা না, কাঠামোটা আসল। জাতিসংঘে একটা রাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি সেউতাকে উপনিবেশ বললেন, আর বললেন শহরটার ২০২১ সালের পর সবচেয়ে খারাপ দিনে।
এটাকে মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া কথা ভাবলে ভুল হবে। এটা একটা ধারাবাহিকতার সর্বশেষ টুকরো, যে ধারাবাহিকতার তারিখ আছে, নাম আছে, নথি আছে।
এবং সেই ধারাবাহিকতা এক অস্বস্তিকর জায়গায় গিয়ে ঠেকে।
সেউতা-মেলিয়া নিয়ে মরক্কোর দাবি আর দুই দেশের নিজেদের ব্যাপার নেই। সেটা এখন তৃতীয় পক্ষের হাতিয়ার হয়ে গেছে।
এই তৃতীয় পক্ষরা সানচেসের ওপর চটে আছে, কারণ সানচেস তাদের বিরুদ্ধে বেঁকে বসেছেন, সমালোচনা করেছেন।
তাদের মধ্যে আছেন, একদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে ইসরায়েল।
➖
মার্কিন কংগ্রেস প্রতি বছর ঠিক করে দেয়, বিদেশে কোন দেশের পেছনে কত ডলার খরচ হবে।
বিলের সঙ্গে থাকে একটা সুপারিশপত্র, টাকাটা কীভাবে খরচ হবে, সরকারের কাছে কংগ্রেস কী চায়। এটা আইন না, তবু মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সাধারণত মেনে চলে।
এপ্রিলের শেষে প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট-বরাদ্দ কমিটি এমনই একটা কাগজে সায় দেয়।
নথিটা কয়েক ডজন দফায় ভাগ করা। তারই ভেতরে ছোট্ট একটা অনুচ্ছেদ, সংশোধনী হিসেবে কেউ ঢুকিয়ে দিয়েছে। সেখানে কংগ্রেস তিনটা কথা বলেছে।
এক, যুক্তরাষ্ট্র আর মরক্কোর বন্ধুত্ব বহু পুরনো। ১৭৮৬ সালে দুই দেশের মধ্যে যে শান্তি ও মৈত্রী চুক্তি হয়েছিল, সেটাই আমেরিকার সবচেয়ে পুরনো টিকে থাকা চুক্তি।
দুই, সেউতা আর মেলিয়া মরক্কোর ভূখণ্ডের ভেতরেই রয়েছে, আর মরক্কো বহুকাল ধরে শহর দুটো নিজের বলে দাবি করে আসছে। শহর দুটোকে কংগ্রেস বলেছে “স্পেনের প্রশাসনাধীন”।
তিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যদি রাবাত আর মাদ্রিদকে আলোচনার টেবিলে বসানোর চেষ্টা করেন, কংগ্রেসের সমর্থন তাতে আছে।
আলোচনার বিষয়, দুই শহরের ভবিষ্যৎ কী হবে।
ভাষাটা খেয়াল করার মতো। “স্পেনের” নয়, “স্পেনের প্রশাসনাধীন”। অর্থাৎ স্পেন শহর দুটো চালায়, মালিক কি না সে কথা নাই।
ওই নথিতেই মরক্কোর জন্য কয়েক কোটি ডলার বরাদ্দ আছে। নিরাপত্তা আর সামরিক খাতে।
সংশোধনীটা এনেছেন মারিও দিয়াস-বালার্ত। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান, এই কমিটির সহসভাপতি, আর রুবিওর ঘনিষ্ঠতম মিত্রদের একজন।
রুবিওর মতো তিনিও কিউবান বংশোদ্ভূত। সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, শহর দুটো স্পেনের ভূগোলে না, মরক্কোর ভূগোলে।
কমিটির এই সুপারিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের ওপর বাধ্যতামূলক না। পুরো পরিষদে এখনো অনুমোদন হয়নি। রুবিও নিজেও এখন কিছু করেননি, যতদূর জানা যায়।
তবু কাগজটা ফেলনা নয়। মার্কিন কংগ্রেসের কোনো দাপ্তরিক সংস্থা এই প্রথম লিখিতভাবে বলল, সেউতা আর মেলিয়া মরক্কোর ভূখণ্ডে অবস্থিত।
➖
ওই অনুচ্ছেদটা হঠাৎ কারও মাথায় আসেনি। পেছনে মাসের পর মাস ধরে কাজ চলছে, পুরোদমে।
মার্চ মাসে মাইকেল রুবিন প্রকাশ্যেই দাবি তোলেন, ট্রাম্পের উচিত সেউতা আর মেলিয়াকে মরক্কোর দখল-হওয়া ভূখণ্ড বলে ঘোষণা করা।
রুবিন কে? পেন্টাগনে কাজ করেছেন, এখন আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের গবেষক, আর মিডল ইস্ট ফোরাম নামের থিংকট্যাংকে বিশ্লেষণের কাজ দেখেন।
তার যুক্তি, উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের উপনিবেশ-আমলের শেষ চিহ্ন এই দুই শহর, আর জাতিসংঘ যে উপনিবেশমুক্তির কথা বলে, তার সঙ্গে এদের অস্তিত্ব খাপ খায় না।
এখানেই থামেননি। বলেছেন, মরক্কো বরং দুই শহরের দিকে আরেকটা “সবুজ পদযাত্রা” নামিয়ে দিক। লজ্জার বালাই না করে।
সেউতা এখন উপচে পড়ছে, রুবিনের টুইটও একই সুরে চলছে। লিখছেন, সেউতা-মেলিয়া স্পেনের “অবিচ্ছেদ্য অংশ”।
ইতিহাসের ন্যূনতম জ্ঞান থাকলে এই কথা বলা যায় না। মরক্কো নামের রাষ্ট্রটা জন্মানোর অনেক আগে থেকেই সেউতা আর মেলিয়া স্পেনের।
যুক্তরাষ্ট্র জন্মানোরও আগে।
মে মাসে খোদ মিডল ইস্ট ফোরাম একটা লেখা ছাপল। শিরোনাম, ইসরায়েল-মরক্কো অংশীদারিত্ব জিব্রাল্টার নিয়ে স্পেনের ভণ্ডামি ফাঁস করে দিয়েছে।
বক্তব্যটা সোজা, স্পেন ব্রিটেনের কাছে জিব্রাল্টার ফেরত চায়, অন্যের উপনিবেশ নিয়ে গলা চড়ায়, অথচ নিজে আফ্রিকার মাটিতে দুটো ছিটমহল ধরে বসে আছে।
দুই মাস আগে একই থিংকট্যাংক আরেকটা লেখা ছেপেছিল।
যার বক্তব্য শিরোনামেই বলা, স্পেন এখন অনির্ভরযোগ্য অংশীদার, তার বিরুদ্ধে মরক্কোকে চাপ হিসেবে ব্যবহার করা হোক।
ট্রাম্প প্রশাসনে এদের কথা শোনা হচ্ছে বলেই মনে হয়।
এসব বিশ্লেষণে একটা কথা বারবার ফিরে আসে। ন্যাটোর চুক্তির ছয় নম্বর অনুচ্ছেদ ঠিক করে দিয়েছে, যৌথ প্রতিরক্ষার প্রতিশ্রুতি কোথায় কোথায় খাটবে।
ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, আর কর্কটক্রান্তির উত্তরে উত্তর আটলান্টিকের দ্বীপগুলো। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এর ভেতরে পড়ে। সেউতা আর মেলিয়া পড়ে না।
অর্থাৎ পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদ, একজনের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা, ন্যাটোর এই মূল প্রতিশ্রুতি, এই দুই শহরের বেলায় কোনোদিন খাটেনি।
এদের নিরাপত্তা বরাবর দাঁড়িয়ে আছে স্পেনের নিজের সামরিক শক্তির ওপর, আর কৌশলগত ধোঁয়াশার ওপর।
➖
সেউতা-মেলিয়ার মালিকানা নিয়ে ইসরায়েলের কোনো সরকারি অবস্থান নাই। যুক্তরাষ্ট্রেরও নাই।
যেটা আছে সেটা অন্য জিনিস, আরও অস্পষ্ট, আর সম্ভবত আরও কার্যকর।
থিংকট্যাংক, কংগ্রেসম্যান, বিশ্লেষক আর কূটনীতিকদের একটা বলয়, যারা এই প্রশ্নটা তোলা স্বাভাবিক বানিয়ে ফেলেছে।
২০২০ সালের ডিসেম্বরের আব্রাহাম চুক্তির জন্ম হয়েছিল খোলাখুলি এক লেনদেন থেকে।
ট্রাম্প পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর সার্বভৌমত্ব মেনে নিলেন, বিনিময়ে রাবাত আর তেল আবিব সম্পর্ক স্বাভাবিক করল।
ইসরায়েল নিজেও ওই সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দুই দেশ একটা যৌথ সামরিক কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। মরক্কো আজকে ইসরায়েলি সরঞ্জাম চালায়।
ড্রোন, চক্কর কেটে লক্ষ্য খুঁজে নেওয়া গোলা, ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের সরঞ্জাম, সবই। স্পেনের ঠিক দক্ষিণ সীমানায়।
ওইদিকে মাদ্রিদ ২০২৫ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
২০২৪ সালে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে গাজায় ইসরায়েলের কাজকর্ম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতরে সবচেয়ে সরব কণ্ঠগুলোর একটা স্পেনেরই।
এই পটভূমিতেই সেউতা আর মেলিয়া অস্ত্র হয়ে উঠেছে। এটা কাকতালীয় ঘটনা নয়।
সামরিক বিশ্লেষক ও ওসিন্টসাহেল সম্পাদক হেসুস মানুয়েল পেরেস ত্রিয়ানা কিছু ভালো কথা বলছেন।
“যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের কাছে আসল কথা হলো, মরক্কো আব্রাহাম চুক্তির অংশ, তাতে ইসরায়েলের স্বাভাবিকীকরণে সুবিধা হয়।
সানচেসের সঙ্গে এই দুই দেশের যে বিরোধ, তা থেকে দুই সরকারের মনেই স্পেনের প্রতি ক্ষোভ জমেছে। তারা এখন হাত দিয়েছে জাতীয় সার্বভৌমত্বের মতো একটা লাল দাগে।
সেউতা-মেলিয়া নিয়ে ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের সত্যিই মাথাব্যথা আছে বলে আমার মনে হয় না, কিন্তু বিতর্ক বাধানোর জন্য বিষয়টা কাজের।”
➖
মরক্কো, যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরায়েলের এই ঘনিষ্ঠতা মিলে স্পেনের জন্য যে বিপজ্জনক পরিবেশ তৈরি হলো, তার পেছনে দুইটা ঘটনা।
এক, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৭৯৭ নম্বর প্রস্তাব।
মার্কিন উদ্যোগে সেটি পাস হয় ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর, পক্ষে এগারো ভোট, বিপক্ষে একটিও নয়, বিরত তিনটি।
প্রস্তাবে পশ্চিম সাহারার জন্য মরক্কোর দেওয়া স্বায়ত্তশাসন পরিকল্পনাকে আলোচনার “গুরুত্বপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত ভিত্তি” বলে মেনে নেওয়া হয়।
আর সাহারাবাসীর আত্মনিয়ন্ত্রণের চিরাচরিত কথাটা ফিকে করে দেওয়া হয়।
ষষ্ঠ মোহাম্মদ টেলিভিশনে যা বললেন, মাদ্রিদের সেটা আরও মন দিয়ে শোনা উচিত ছিল, এখন থেকে হিসাব হবে ৩১ অক্টোবর ২০২৫-এর আগে আর পরে।
রাজনৈতিক শিক্ষাটা পরিষ্কার। অর্ধশতাব্দী ধরে চালিয়ে যাওয়া একটা ভূখণ্ড-দাবি শেষ পর্যন্ত সেই সংস্থার সিলমোহর পেয়ে যেতে পারে, যার কাজ ছিল তা ঠেকানো।
দুই, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্পেনের সম্পর্কের অবনতি।
ইরান অভিযানের সময় রোতা আর মোরোন ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়া। ন্যাটোর ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না করা।
পেন্টাগনের একটা অভ্যন্তরীণ চিঠি ফাঁস হওয়া, যেখানে স্পেনের সদস্যপদ স্থগিত করার কথা পর্যন্ত উঠেছিল।
আর খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের বারবার প্রকাশ্য আক্রমণ।
২০২৫ সালের শেষে অনুমোদিত মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলপত্রে ইউরোপকে বলা হয়েছে প্রয়োজনীয়, কিন্তু অনির্ভরযোগ্য অংশীদার।
এই ফাটলেই সেউতা-মেলিয়ার নথিটা ঢুকে বসেছে।
অর্ধশতাব্দী ধরে স্পেন ধরে নিয়েছিল, সেউতা-মেলিয়া মরক্কোর, এই যুক্তি গুরুত্বপূর্ণ কেউ কিনবে না। ধরে নেওয়াটা আর খাটছে না।
প্রশ্নটা এখন আর এই নয় যে মরক্কো একা কি না। একা নয়। প্রশ্নটা হলো, কথার বাইরে গিয়ে এই চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে স্পেন জানে কি না।