তার পাহারা কে দেয়?

হিসাবটা অধ্যাপক ওয়ারেসুল করিমের কাছে মিলছিল না।

তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় ও অর্থনীতি অনুষদের ডিন, সারা জীবনের কাজকর্ম সংখ্যা নিয়ে। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটা এটিএম বুথের পাহারাদারকে তিনি জিজ্ঞেস করেছিলেন, বেতন কত। উত্তর আসল, আট হাজার টাকা।

আট ঘণ্টার ডিউটির বিনিময়ে মাসে আট হাজার টাকা।

সংখ্যাটা এত কম যে ওয়ারেসুল করিমের মনে হলো তিনি ভুল শুনেছেন। আবার জিজ্ঞেস করলেন। কিন্তু উত্তর বদলায় নাই।

নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়েও তিনি একই ঘটনা দেখলেন। নর্থ সাউথের ফটক আর ভবন পাহারা দেন দেড়শোর কাছাকাছি মানুষ, তাদের আট ঘণ্টার ডিউটির দামও ওই সাড়ে আট থেকে নয় হাজার টাকা।

একটা পডকাস্টে বসে ওয়ারেসুল করিম এই হিসাবটা মেলাচ্ছিলেন, আর একটা শব্দ বারবার তার মুখে ফিরে আসছিল, ‘অবিশ্বাস্য’।

➖

এই পাহারাদারকে আপনি প্রতিদিন পার হয়ে যান, আপনার চোখে পড়ে না। প্লাস্টিকের চেয়ার, একটা লাঠি, নীল ইউনিফর্ম, বুকে কোম্পানির মনোগ্রাম।

ভেতরের ভল্টে কোটি টাকা, গ্রাহকের গয়নার লকার, শহরের দামি এটিএম মেশিন। এই সবকিছুর পাহারাদার ঘুমে ঢুলতে থাকা ওই একজন।

অধ্যাপক করিমের হিসাবে ঘণ্টার কথাও আছে। আট ঘণ্টার এক শিফটে যেহেতু বেতন আট হাজার, অনেকে টানেন পরপর দুই শিফট।

দিনে ষোলো ঘণ্টা, আর মাস শেষে ঘরে নেন পনেরো-ষোলো হাজার। দুই মানুষের কাজ, একজনের শরীর।

ষোলো ঘণ্টা ডিউটির পর দিনে বাকি থাকে আট ঘণ্টা। এর মধ্যে বাড়ি ফেরা, রান্না, খাওয়া, কাপড় ধোয়া, ঘুম, আবার ডিউটিতে ফেরা।

এদের অনেকেই নারী, কারও ঘরে স্বামী, কারও বাচ্চা। ওই আট ঘণ্টার ভেতরেই তখন ঘরের কাজ, সন্তানের দেখাশোনা। ঘুম যা বাঁচে, তা-ই। ওই অবিশিষ্ট সময়টুকু।

➖

আট হাজারের এই দর ওয়ারেসুল করিমের নতুন আবিষ্কার না, এটাই এই খাতের চিরচেনা ছবি।

তিনি কেবল বিষয়টাকে সামনে এনেছিলেন তার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে। সে কারণে ব্রডশিটও সুযোগ পেল আলাপটা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার।

এই খাতের ন্যূনতম মজুরি কত হওয়া উচিত, রাষ্ট্র সেই প্রশ্ন তুলেছে মাত্র একবার।

২০২১ সালে নিম্নতম মজুরি বোর্ড প্রথমবারের মতো নিরাপত্তা খাতের একটা খসড়া সুপারিশ করে, সর্বনিম্ন গ্রেডের গার্ডের জন্য মাসে নয় হাজার একশো চল্লিশ টাকা।

সেই খসড়ার চূড়ান্ত গেজেটের খোঁজ আজও মেলে না।

সরকার নিজে যখন আউটসোর্সিংয়ে গার্ড ভাড়া করে, তার নিজের বেঁধে দেওয়া দর ঢাকায় মাসে আঠারো হাজার একশো আশি টাকা।

রাষ্ট্রের খাতায় এক শিফটের একজন গার্ডের দাম আঠারো হাজার, কিন্তু বাজার তাকে দিচ্ছে আট। প্রাপ্য পাওয়ার জন্য তাকে ডাবল শিফট করতে হচ্ছে।

চাকরিতে ঢোকার আগে উল্টা গার্ডকেই টাকা দিতে হয় অনেকসময়। সাত থেকে বারো দিনের বিনা বেতনের প্রশিক্ষণ, তার ফি তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা।

ঢুকে পড়ার পর আছে জরিমানার খাতাও। এক ব্যাংকের বুথে ঝিমানোর দায়ে এক গার্ডের বেতন থেকে চার হাজার টাকা কেটে নেওয়ার খবর ছেপেছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

সেই ব্যাংকেই এমন জরিমানা গুনেছেন অন্য ছত্রিশজন পাহারাদার।

ষোলো ঘণ্টার ডিউটিতে চোখ লেগে আসাটা এখানে অপরাধ, তার মূল্য মূল বেতনের অর্ধেকও হতে পারে।

➖

পাহারা এই ভূখণ্ডের সবচেয়ে পুরানো পেশাগুলির একটা, আর তার দুর্দশাও নতুন না।

দারোয়ান শব্দটা ফারসি, দরবান, দরজার রক্ষক।

শব্দের ভেতরেই মানুষটার ঠিকানা লেখা, সে দরজার, ঘরের না। যে সম্পদ সে পাহারা দেয়, সেই ঘরে তার ঢোকার অধিকার নাই।

গ্রামের চৌকিদার ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের একেবারে নিচের ধাপ।

১৮৭০ সালে ব্রিটিশরা একটা আইন করে পুরা ব্যবস্থাটা গুছিয়ে ফেলে। চৌকিদারের বেতন আসত সরাসরি গ্রামের মানুষের পকেট থেকে, ‘চৌকিদারি কর’ নাম দিয়ে।

যাদের পাহারা দেওয়া হচ্ছে, বেতন গুনছে তারাই। এই কর মানুষ এতই অপছন্দ করত যে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় কর দেওয়া বন্ধের দাবি প্রতিবাদের হাতিয়ার হয়ে উঠেছিলো।

চৌকিদার নেওয়া হতো সমাজের একেবারে প্রান্তের মানুষদের থেকে, বেতন ছিল নামমাত্র, আর স্বয়ং ইংরেজ কর্তারাই লিখে গেছেন, গ্রামে চুরি হলে প্রথম সন্দেহটা পড়ত চৌকিদারের উপরেই।

দেড়শো বছরে সেই হিসাব আদতে তেমন বদলায় নাই, এখনও কোনো ভবনে চুরি হলে প্রথম জিজ্ঞাসাবাদ গার্ডকেই।

শ্রমের বন্দোবস্ত এসেছে আরেক পথে। ঔপনিবেশিক পাটকলে আর চা-বাগানে শ্রমিক আসত সর্দারের হাত ধরে।

ব্রিটিশ আমলের পাটকল আর চা-বাগানে শ্রমিক আসত সর্দারের হাত ধরে। সর্দার গ্রাম থেকে লোক জোগাড় করত, মালিকের হাতে তুলে দিত, তাদের মজুরির একটা ভাগ নিজে রাখত।

শ্রমিক একবার সর্দারের কাছে টাকা ধার নিলে সেই ঋণ শোধ করতে করতেই জীবন কেটে যেত। মালিক কখনো শ্রমিকের সামনে আসত না, দায়ও নিত না। মাঝখানে সর্দার দাঁড়িয়ে থাকত ঢাল হয়ে।

আজকের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি এই দুইয়েরই উত্তরসূরি। চৌকিদারের মজুরি, সর্দারের বন্দোবস্ত।

➖

ব্যাংক সরাসরি গার্ড নিয়োগ করে না, এজেন্সির কাছ থেকে সেবা কেনে তারা।

ফলে গার্ড আর ব্যাংকের মধ্যে কোনো আইনি সম্পর্ক থাকে না। গার্ড ব্যাংকের সম্পদ পাহারা দেন, কিন্তু ব্যাংক তার নিয়োগকর্তা না।

এজেন্সি তার বেতন দেয়, কিন্তু এজেন্সির কোনো কাজ সে করে না। মানুষটা দুই প্রতিষ্ঠানের মাঝখানে ঝুলে থাকেন, আর দুই প্রতিষ্ঠানই তার দায় থেকে মুক্ত।

মার্কিন শ্রম-অর্থনীতিবিদ ডেভিড ওয়াইল এই ব্যবস্থার নাম দিয়েছেন ফিশার্ড ওয়ার্কপ্লেস, ফাটল ধরা কর্মক্ষেত্র।

বড় প্রতিষ্ঠান ব্র্যান্ড আর মুনাফা নিজের কাছে রাখে, কম দক্ষতা লাগে এমন কাজগুলি ঠেলে দেয় ঠিকাদারের স্তরে স্তরে।

ঠিকাদাররা সবচেয়ে কম দরে কাজ পেতে একে অন্যের সাথে পাল্লা দেয়, আর সেই কম দরের চাপ নামতে নামতে গিয়ে পড়ে একেবারে নিচের মানুষটার মজুরিতে।

ওয়াইল তার বইয়ে এই সিস্টেমের প্রথম সারির উদাহরণ দিয়েছেন দুইটা পেশার, ঝাড়ুদার আর নিরাপত্তাকর্মী।

আউটসোর্সিং কর্মীদের নিয়ে যে অভিযোগগুলি বছরের পর বছর পত্রিকায় ওঠে, সেগুলি এই কাঠামোরই লক্ষণ।

ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বদলে হাতে হাতে বেতন, ওভারটাইমের প্রাপ্য মেরে দেওয়া, মাসের পর মাস বেতন বাকি, আর বছর শেষে চুক্তি নবায়নের সময় ঠিকাদারের হাতে কিছু টাকা না দিলে চাকরি শেষ।

যে মানুষটা অন্যের সম্পদ নিরাপদ রাখে, তার নিজের চাকরিটাই সবচেয়ে নড়বড়ে।

➖

২০১৯ সালের আগস্টের এক রাতে গাজীপুরের বোর্ড বাজারে এবি ব্যাংকের এটিএম বুথের পাহারায় ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম, তার বয়স পঁয়তাল্লিশ।

মুখোশধারীরা তাকে কুপিয়ে রেখে যায়, সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায় তারা টাকায় হাতও দেয় নাই। লাশটা পাওয়া যায় পরদিন সকালে, বুথে টাকা তুলতে আসা এক গ্রাহকের চোখে।

জাহাঙ্গীর যে মেশিনটা পাহারা দিচ্ছিলেন, তাতে থাকে কোটি টাকা। আইনের খাতায় তার নিজের জীবনের দাম কত?

বাংলাদেশ শ্রম আইনে কর্মরত অবস্থায় নিহত শ্রমিকের পরিবার পায় এককালীন দুই লাখ টাকা। ২০১৮ সালের সংশোধনীতে অঙ্কটা এক লাখ থেকে বেড়ে দুই লাখ হয়েছে।

মাসে দশ হাজার রোজগারের একজন মানুষও কিন্তু সমস্ত কর্মজীবনে আয় করতেন প্রায় আধা কোটি টাকা, আইন তার জীবনের দাম ধরেছে সেই আয়ের শতকরা পাঁচ ভাগ।

সেই দুই লাখ আদায় করতেও পরিবারকে ঘুরতে হয় এজেন্সি আর গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের দরজায় দরজায়।

➖

নরওয়ের শান্তি-গবেষক ইওহান গালতুং এই ধরনের ব্যবস্থাকে ‘কাঠামোগত সহিংসতা’ হিসাবেই চিহ্নিত করেছিলেন।

সাধারণ সহিংসতায় একজন মারে, একজন মরে, আক্রমণটা দেখা যায়, মারনেওয়ালাকে চেনা যায়। কাঠামোগত সহিংসতায় কেউ আঘাত মারে না, তবু মানুষ নিষ্পেষিত হয়।

কম মজুরি, ষোলো ঘণ্টার শিফট, ঘুমহীন রাত, বিমাহীন বার্ধক্য, এর কোনোটাই নিছক একজন খলনায়কের কাজ না। এগুলি একটা কাঠামোর স্বাভাবিক ফল।

যেখানে দায় এত ভাগ হয়ে গেছে যে কারও ঘাড়েই আর পড়ে না। নির্যাতন আছে, নির্যাতনকারী নাই।

ব্রডশিট আগেও দেখিয়েছে, এই দেশে দায় মুছে দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় দায়টাকে অনেকগুলি হাতে ছড়িয়ে দেওয়া।

সড়কে চালকের বেতন ট্রিপে বেঁধে দিলে দুর্ঘটনার দায় চালকের ঘাড়ে চলে যায়, মালিকের থাকে না।

নিরাপত্তা খাতেও গার্ডকে এজেন্সির হাতে ছেড়ে দিলে তার দুর্দশার দায় কারও থাকে না। ব্যাংক বলে সে আমার কর্মী না, এজেন্সি বলে আমি তো শুধু সাপ্লাই দেই।

➖

এর মধ্যে সংখ্যাটা নিঃশব্দে অনেক বড় হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পুলিশের জনবল দুই লাখের কিছু বেশি, আর বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের হিসাবে, প্রায় ছয় লাখ।

সেইদিক থেকে এই দেশের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা বাহিনীটা এখন রাষ্ট্রের না, এজেন্সির।

ছবিটা বৈশ্বিকও। গার্ডিয়ানের অনুসন্ধান বলছে, দুনিয়াজুড়ে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী দুই কোটির বেশি, আর পৃথিবীর অন্তত অর্ধেক মানুষ এমন সব দেশে থাকে যেখানে পুলিশের চেয়ে ভাড়া করা পাহারাদারের সংখ্যা বেশি।

ভারতে পুলিশ সতেরো লাখ, বেসরকারি গার্ড সত্তর লাখ, চারগুণ।

ফলে নিরাপত্তা আর নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি না, নিরাপত্তা এখন দোকানের পণ্য। যার টাকা আছে সে বেশি কেনে, যার নাই সে কমে চালায়।

এই এজেন্সি-কাঠামোও এখন ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। শপিং মলের ফুডকোর্টে যে মানুষটা আপনার প্লেট তুলে নেন, তিনি মলের কর্মী না, এজেন্সির।

অফিস ভবনের ঝাড়ুদার, হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়, কর্পোরেট অফিসের চা-সরবরাহকারী, সরকারি দপ্তরের সহায়ক কর্মী, সবাই কোনো না কোনো ঠিকাদারের খাতায়।

প্রতিষ্ঠান তাদের কাজ নেয়, কিন্তু কর্মী হিসেবে স্বীকার করে না।

এতে নিশ্চিতভাবেই একটা নতুন শ্রেণি তৈরি হচ্ছে, যাদের কাজ আছে কিন্তু নিয়োগকর্তা নাই, বেতন আছে কিন্তু নিরাপত্তা নাই, শ্রম আছে কিন্তু পরিচয় নাই।

ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ গাই স্ট্যান্ডিং এই শ্রেণির নাম দিয়েছেন প্রিকারিয়াট, অনিশ্চয়তার শ্রমিক।

গার্ড, বাসন ধোওয়া, অ্যাপের রাইডার, ঠিকায় খাটা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আলাদা পেশা মনে হলেও একই কাঠামোর সন্তান।

ভারতের গার্ডদের প্রশিক্ষণ ঘেঁটে গবেষক নন্দিনী গুপ্তু দেখেছেন, সেখানে আসলে শেখানো হয় সেলাম দেওয়া, স্যার বলা, নিচু হয়ে দাঁড়ানো।

পাহারার প্রশিক্ষণের বড় অংশটাই বিনয়ের প্রশিক্ষণ।

➖

এজেন্সি ব্যবস্থাটা পুরাপুরি অকেজো, তা অবশ্য না।

সংগঠিত নিরাপত্তা সেবা এই দেশে সত্যিকারের একটা শূন্যতা পূরণ করেছে, ২০০৬ সাল থেকে একটা আইনও আছে খাতটা চালানোর।

এই খাতের নিজের ভাষ্যে, ২০১৬ সালের গুলশান হামলার পর বহু প্রতিষ্ঠান পেশাদার নিরাপত্তার গুরুত্ব বুঝেছে, প্রশিক্ষণের মান বেড়েছে, এবং খাতটা কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান দিয়েছে।

ফলে সমস্যাটা সেবার অস্তিত্বে, এমন ভাবলে ভুল হবে। সমস্যা এই সেবার ভেতরের বণ্টনে। যে দাম গ্রাহক দেয় আর যে মজুরি শ্রমিক পায়, তার মাঝখানের ফারাকে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে অন্তর্বর্তী সরকার আউটসোর্সিং নীতিমালা করে সরকারি খাতের ভাড়া করা গার্ডের মাসিক দর আঠারো হাজার টাকায় তুলেছে।

কিন্তু এই দর খাটে শুধু তখনই, যখন সরকার নিজে গার্ড ভাড়া করে। বাজারের ছয় লাখ গার্ডের জন্য আছে শুধু মজুরি বোর্ডের ওই খসড়া, যেটা আইন হয়ে ওঠে নাই।

আইনে লেখা আছে সপ্তাহে আটচল্লিশ ঘণ্টা, কিন্তু ষোলো ঘণ্টার ডিউটি কে ঠেকাবে?

➖

ব্যাংকের সামনের সেই মানুষটার কাছে ফিরি।

ভোর হয়ে আসছে। পরের গার্ড আসবে সকাল ছয়টায়, তিনি এসেছিলেন আগেরদিন বিকাল চারটায়। চোদ্দো ঘণ্টা হয়ে গেছে।

ঘরে ফিরে কয়েক ঘণ্টা ঘুমাবেন, তারপর আবার এই জায়গায় আসবেন।

তার নিয়োগপত্র নাই, ফলে প্রমাণও নাই যে তিনি কোনোদিন কোথাও একটা চাকরি করেছিলেন।

পঞ্চান্ন-ষাট বছর বয়সে যখন আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না, তখন তার পেনশন নাই, সঞ্চয় নাই, উপায় শুধু ওই ছেলেমেয়ের কাছে হাত পাতা।

ডিউটিতে ঘুমালে তার জরিমানা চার হাজার টাকা। অথচ সমস্ত শহর ঘুমায় তার পাহারায়। তার নিজের ঘুম কেউ পাহারা দেয় না।

0 FacebookTwitterPinterestEmail

মন্তব্য করুন