২১ জুলাই মঙ্গলবার বিকালে মহেশখালীর কাছে নোঙর করা এক্সেলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে আগুন লাগে। জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময়।
আগুন জ্বলেছিল পনেরো মিনিটের বেশি।
পুড়েছে দুইটা বয়লারের বিদ্যুৎ, নিয়ন্ত্রণ আর ইনস্ট্রুমেন্টেশনের তার। জ্বালানি বিভাগের বরাতে টিবিএস লিখেছে, বয়লার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নাই। একই সপ্তাহে ঢাকা ট্রিবিউন লিখেছে, দুইটা বয়লারের একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস ঘটনার তারিখ লিখেছে ২১ জুলাই, ডেইলি স্টার পরে লিখেছে ২২।
প্রতিস্থাপনের তার দেশে ছিল না। আনতে হয়েছে বিদেশ থেকে।
স্থানীয় কারিগরি দল ত্রুটির কারণই শনাক্ত করতে পারে নাই, পেট্রোবাংলা তা জানায় ২৫ জুলাই। যুক্তরাজ্য আর সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ দল ততদিনে কাজে নেমে গেছে, ২৩ জুলাই থেকে।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের মুখপাত্র, যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী ২৬ জুলাই টিবিএসকে বলেছেন, “আগুন আর কয়েক মিনিট চললে ক্ষতি অপূরণীয় হতে পারত। এফএসআরইউ ছয় থেকে বারো মাস অচল থাকতে পারত।”
ওই তার পুড়ে দেশের দৈনিক গ্যাস থেকে গেল সাড়ে চারশো মিলিয়ন ঘনফুট, ছয় ভাগের এক ভাগ। আমদানি করা এলএনজি স্বাভাবিক দিনে দিত ১,০৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। আগুনের পর ৫০১।
২৫-২৬ জুলাইয়ের হিসাবে জাতীয় চাহিদা ৩,৮৫৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ ২,১৫১। সাগরে তখন এলএনজি ভর্তি দুইটা জাহাজ ভাসছে। খালাস করার জায়গা নাই।
➖
দেশের গ্যাসের একচল্লিশ শতাংশ পোড়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। শিল্পে যায় ছত্রিশ শতাংশ, বাসার চুলায় এগারো, সার কারখানায় ছয়, সিএনজিতে পাঁচ।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য মো. জহুরুল ইসলাম ৩ আগস্ট ডেইলি স্টারকে বলেছেন, “যা আছে তাই দিয়ে চালাচ্ছি।” ওই দিন গড় লোডশেডিং ১,৪৮২ মেগাওয়াট, আগের সপ্তাহে ছিল ৩২০। দেশের ১৪৩টা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬২টাই জ্বালানি পাচ্ছে না।
ডেইলি স্টার লিখেছে, কারখানা চালাতে দরকার ন্যূনতম আঠারো পিএসআই চাপ, মিলছে দুই-তিন। সিরামিকের দরকার ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ, মিলছে পনেরো-ষোলো।
বিটিএমএর পরিচালক খোরশেদ আলম ২৪ জুলাই প্রথম আলোকে বলেছেন, জেনারেটর চালাতে লাগে দশ, তিনি পাচ্ছেন “এক পিএসআইয়ের নিচে”।
সিরামিক কারখানায় নিখুঁত পণ্যের হার নব্বই শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে দশে।
টিবিএস লিখেছে, গ্যাস ছেড়ে ডিজেলে যাওয়ার পর একটা স্পিনিং মিলের দৈনিক জ্বালানি বিল বিশ লাখ টাকা থেকে উঠেছে নব্বই লাখে। গ্যাসে এক ইউনিট বিদ্যুতের খরচ চৌদ্দ-পনেরো টাকা, ডিজেলে চৌত্রিশ।
পলিসি এক্সচেঞ্জের এম মাসরুর রিয়াজের হিসাবে পোশাক, বস্ত্র, ইস্পাত আর সিরামিকে উৎপাদন কমেছে ত্রিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস লিখেছে, দেশের সাতটা গ্যাসভিত্তিক সার কারখানার পাঁচটা বন্ধ, চালু দুইটাও পাচ্ছে দরকারের তিন ভাগের এক ভাগ। গত অর্থবছরে গ্যাস নিরবচ্ছিন্ন থাকলে বাড়তি বাইশ থেকে পঁচিশ লাখ টন সার উৎপাদন হতো। সারা দেশের এক বছরের চাহিদা ছাব্বিশ-সাতাশ লাখ টন।
গ্যাসের অভাবে যে সার হয় নাই, তা দিয়ে দেশের প্রায় গোটা বছর চলে যেত।
সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির মহাসচিব ফারহান নূর ২৪ জুলাই বলেছেন, বেশিরভাগ স্টেশনে চাপ “এক, দুই, এমনকি শূন্য পিএসআই”। ঢাকায় লাইন দুই থেকে ছয় ঘণ্টার। টিবিএস এক সিএনজি-চালকের কথা লিখেছে, যিনি প্রায় চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে পেরেছেন একশো পঞ্চান্ন টাকার।
আর ২৮ জুলাই থেকে একবারে দুইশো টাকার বেশি গ্যাস মিলছে না।
কর্ণফুলী গ্যাসের এক কর্মকর্তা ৩ আগস্ট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেছেন, “চট্টগ্রামের সরবরাহ কমিয়ে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে বলেই সংকট বাড়ছে।”
তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ ২৩ জুলাই বলেছেন, তার এলাকার চাহিদা ২,২০০, আগুনের আগেই পাচ্ছিলেন ১,৫০০-১,৫৫০। আগুনের পর কোনো কোনো দিন নেমেছে ৭৫০-এ। তার সাতাশ লাখ আটাত্তর হাজার গ্রাহকের প্রায় সবাই আবাসিক।
২৮ জুলাই মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা আর বাসাবোতে দিনভর রান্নার গ্যাস ছিল না। ৩ আগস্ট পর্যন্ত মানুষ রান্না করেছে গভীর রাতের সরবরাহের সময়।
পাইপের গ্যাসে দুই চুলার মাসিক বিল এক হাজার আশি টাকা। বিলটা ঠিকই আসে, গ্যাস না আসলেও।
বিকল্প বারো কেজির সিলিন্ডার। জানুয়ারিতে সরকার-নির্ধারিত দাম ছিল ১,৩০৬ টাকা, প্রথম আলোর হিসাবে বাজারে বিক্রি হয়েছে দুই হাজার থেকে পঁচিশশো পঞ্চাশে। একটা সিলিন্ডারেই চলে যায় পাইপের দুই মাসের বিল।
২ আগস্ট সন্ধ্যা ছয়টা থেকে নির্ধারিত দামটাই ১,৫৯৮। দামটা ঠিক করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। কারণ হিসেবে তারা বলেছে আন্তর্জাতিক দাম, জাহাজভাড়া আর ডলারের হিসাব। দেশের সংকটের কথা তারা বলে নাই।
➖
নভেম্বর ২০২১। সামিটের এফএসআরইউয়ের মুরিং লাইন ছিঁড়ে যায়। আমদানি দিনে প্রায় আটশো মিলিয়ন ঘনফুট থেকে নামে ৩৮৪-তে, সংকট চলে তিন মাস।
মে ২০২৩। ঘূর্ণিঝড় মোখার মুখে দুইটা টার্মিনালই বন্ধ করে দিতে হয়। এক্সেলারেটের জাহাজটাকে গভীর সমুদ্রে সরাতে হয়, মুরিং লাইন খুলে।
জানুয়ারি ২০২৪। দুইটাই আবার বন্ধ, একটা রক্ষণাবেক্ষণে, একটা সক্ষমতা বাড়ানোর কাজে। ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম পুরোপুরি গ্যাসশূন্য। স্থাপিত ২৬,৫০৪ মেগাওয়াটের দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন নামে ৯,৫২০-এ।
মে ২০২৪। ঘূর্ণিঝড় রিমালে কয়েকশো টন ওজনের একটা ভাঙা ইস্পাত কাঠামো ভেসে এসে সামিটের জাহাজের গায়ে লাগে, পানিরেখার এক মিটার নিচে। টার্মিনাল বন্ধ ২৪ মে থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর, চার মাস।
এরপর এই জুলাই ২০২৬।
পাঁচ বছরে পাঁচবার। অন্তত দুইবার দুইটা টার্মিনালই একসাথে বন্ধ ছিল, আর সচল হতে লেগেছে কখনো আট দিন, কখনো চার মাস।
মেরামতের লোক আর যন্ত্রাংশ আসতে হয়েছে বাইরে থেকে, ২০২৩ সালে বেলজিয়াম থেকে প্রকৌশলী, ২০২৬ সালে যুক্তরাজ্য আর আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ দল, আর একগোছা তার।
➖
দেশে স্থলভিত্তিক কোনো এলএনজি টার্মিনাল নাই।
এলএনজি আসে জাহাজে, তরল অবস্থায়। সেটাকে আবার গ্যাসে ফিরিয়ে পাইপে তোলার কাজ করে বিশেষ ধরনের জাহাজ। বাংলাদেশের এমন জাহাজ দুইটা, দুইটাই ভাড়া করা, দুইটাই নোঙর করা মহেশখালীর পাশে।
প্রথমটা চালু ২০১৮ সালের আগস্টে, চুক্তি পনেরো বছরের। দ্বিতীয়টা সামিটের, চালু ২০১৯ সালের এপ্রিলে। দুইটা মিলিয়ে দিনে হাজার থেকে এগারোশো মিলিয়ন ঘনফুট।
তীরে ওঠার পথও একটাই, মহেশখালী থেকে আনোয়ারা। পাইপ অবশ্য দুইটা, একটা ২০১৭ সালের, আরেকটা ২০২১ সালের। কিন্তু দুইটাই একই দ্বীপ থেকে বের হয়ে পাশাপাশি গেছে।
কর্মকর্তারাই টিবিএসকে বলেছেন, এই অবকাঠামো দিয়ে জাতীয় গ্রিডে বড়জোর দেড় হাজার মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি ঢোকানো যায়। চাহিদা তিন হাজার সাতশোর উপরে।
মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক টার্মিনালের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে। দরপত্র ডাকা হয় ২০১৯ সালে, আটটা প্রতিষ্ঠান সংক্ষিপ্ত তালিকায় ওঠে। সরকারি কোম্পানিরই এক কর্মকর্তা তখন টিবিএসকে বলেছিলেন, মূল্যায়ন কমিটি দেড় বছরেও প্রতিবেদন জমা দিতে পারে নাই।
২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর তালিকাটাই বাতিল হয়ে যায়।
পরামর্শক টোকিও গ্যাস এর মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করেছে, দরপত্রের কাগজপত্রও বানিয়ে রেখেছে। এখন খোঁজা হচ্ছে আরেক দফা পরামর্শক, আগ্রহপত্র জমার শেষ তারিখ ১০ আগস্ট ২০২৬। কর্মকর্তারা বণিক বার্তাকে বলছেন, টার্মিনাল হতে লাগবে আরও সাত-আট বছর।
বারো বছরে নকশা থেকে দালান হয় নাই। ভাড়াটা হয়েছে।
➖
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস দুই জাহাজের ভাড়ার অঙ্ক ছাপে। দিনে সাড়ে চার লাখ ডলার, এক্সেলারেটের জন্য দুই লাখ সাঁইত্রিশ হাজার, সামিটের দুই লাখ সতেরো হাজার।
চুক্তির ধরন টেক-অর-পে, অর্থাৎ গ্যাস নেওয়া হোক না হোক টাকা দিতে হবে। ওই মুহূর্তে দুই টার্মিনালের সক্ষমতার সাতান্ন শতাংশ পড়ে ছিল অব্যবহৃত।
আট বছরে কেবল রিগ্যাসিফিকেশনের ফি বাবদ গেছে প্রায় ষোলো হাজার কোটি টাকা, বণিক বার্তার হিসাব।
চুক্তিগুলি গোপন। ভাষাটা একবারই বাইরে এসেছে, একটা বিরোধের সূত্রে। রিমালে বন্ধ থাকা চার মাসের ফি বাবদ সামিট পেট্রোবাংলার কাছে দাবি করে দুই কোটি বিশ লাখ ডলার।
ডেইলি স্টার সামিটের যুক্তি ছাপিয়েছে, টার্মিনাল ব্যবহার চুক্তি অনুযায়ী ফি “ফোর্স মেজিওরের সময়েও দিতে হবে”, “প্রতিকূল আবহাওয়ায় টার্মিনালের কর্মক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দিতে হবে”।
পেট্রোবাংলা দাবিটা আইন বিভাগে পাঠায়, চালানের গায়ে লিখে রাখে “বিতর্কিত চালান”। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিরোধ মেটে নাই।
➖
নতুন শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ ২০০৯ সালের জুলাই থেকে, আবাসিক ২০১০ সালের জুলাই থেকে।
মাঝে কখনো কখনো খুলেছে, আবার বন্ধ হয়েছে। সবশেষ বন্ধের চিঠিটা গেছে ১৪ জুলাই ২০২৬। আগুনের ঠিক এক সপ্তাহ আগে।
ঢাকা ট্রিবিউনের হিসাবে ত্রিশ হাজার কোটি টাকার সম্পূর্ণ তৈরি কারখানা বসে আছে কেবল গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায়।
সিটি গ্রুপ একাই ২০২০ সাল থেকে মুন্সীগঞ্জে ছয়টা কারখানা বানিয়ে রেখেছে চৌদ্দ হাজার কোটি টাকায়, একটাতেও গ্যাস আসে নাই, প্রথম আলো লিখেছে।
কোম্পানির হিসাবে দিনে সুদই গুনছে পাঁচ কোটি টাকা। মেঘনা গ্রুপের বিনিয়োগ সাত হাজার তিনশো বিশ কোটি টাকা, মাসে সুদ পঁয়তাল্লিশ কোটি। হা-মীম গ্রুপের এ কে আজাদ একটা সংযোগের জন্য অপেক্ষা করেছেন দুই বছর।
সংযোগের আবেদন ঝুলছে আঠারোশোর বেশি। টাকা জমা দিয়ে বসে আছে প্রায় সাড়ে পাঁচশো কোম্পানি, তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজেই পাঁচশোর বেশি নিশ্চিত করেছেন।
সবগুলিকে গ্যাস দিতে লাগত দিনে বাড়তি সাড়ে তিনশো মিলিয়ন ঘনফুট। আগুনে যা গেছে, তার চেয়েও কম।
➖
২ মার্চ ২০২৬ ইরানের হামলায় কাতারের রাস লাফফানে এলএনজি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে গ্যাস কেনে তিনটা কোম্পানির কাছ থেকে। হামলার পাঁচ দিনের মধ্যে তিনটাই অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করে, চুক্তির ভাষায় যাকে বলে ফোর্স মেজিওর।
টিবিএসের হিসাবে কাতারএনার্জি ঘোষণা দেয় হামলার দিনেই, ওমানের ওকিউ ট্রেডিং তিন দিন পর, এক্সেলারেট এনার্জি তার পরদিন।
এই এক্সেলারেট এনার্জিই মহেশখালীর সেই টার্মিনালের মালিক, জুলাইয়ে যেখানে আগুন লেগেছিল।
ফোর্স মেজিওর মানে, যুদ্ধ বা দুর্যোগের মতো কারণে পণ্য না দিলে সরবরাহকারীর ঘাড়ে চুক্তিভঙ্গের দায় বর্তায় না। জরিমানা নাই, ক্ষতিপূরণ নাই, চুক্তিও বাতিল হয় না। শুধু গ্যাসটা আসে না।
কাতারের কাছ থেকে বছরের পাওনা ছিল চল্লিশ কার্গো, এক কার্গো মানে এক জাহাজভর্তি এলএনজি। পাওনাটা নেমে আসে বিশে।
যা চুক্তিতে মিলছে না, তা কিনতে হয় খোলাবাজার থেকে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে দাম আগে থেকে বাঁধা, খোলাবাজারে কিনতে গেলে যেদিন যা দর।
মার্চের প্রথম দরপত্রে একটা বিক্রয়ের প্রস্তাবও জমা পড়ে নাই। একই পরিমাণ গ্যাসের দাম ডিসেম্বরে ছিল দশ ডলারের নিচে, দ্বিতীয় দফায় কিনতে হয় আটাশ ডলারের উপরে।
খোলাবাজারে মার্চ থেকে জুনে কেনার কথা ছিল আটটা কার্গো, কিনতে হয়েছে পঁচিশটা। সংখ্যায় তিন গুণ, দামেও প্রায় তিন গুণ।
দুইটা কার্গো ইচ্ছা করেই নেওয়া হয় নাই, টিবিএস লিখেছে। নিলে খরচে যোগ হতো আরও দুই হাজার কোটি টাকার বেশি।
সারা বছরের হিসাবে খোলাবাজারের কেনা দাঁড়াচ্ছে আটত্রিশ কার্গোতে, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস লিখেছে, যার ছত্রিশটাই যুদ্ধ শুরুর পরের।
বাজেটে গ্যাসের ভর্তুকি ধরা ছিল ছয় হাজার কোটি টাকা। ১২ মার্চ জরুরি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক বসে, পরদিন অনুমোদন হয় বাড়তি চব্বিশ হাজার কোটি টাকা। সতেরো হাজার এলএনজিতে, সাত হাজার জ্বালানি তেলে।
আর চলতি অর্থবছরের জন্য মন্ত্রণালয়গুলি ভর্তুকি চেয়ে যত টাকার হিসাব জমা দিয়েছে, তা প্রায় এক লাখ বিশ হাজার কোটি টাকা, টিবিএস লিখেছে। তার তিন-চতুর্থাংশই জ্বালানি খাতের।
দেশের নিজের গ্যাসও এর মধ্যে কমছিল। উৎপাদন ২০১৭ সালে ছিল দিনে ২,৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, আগুনের সপ্তাহে ১,৬৫০-এর নিচে, প্রথম আলোর হিসাব। কমছে বছরে দেড়শো মিলিয়ন ঘনফুট করে।
এই আধভাঙা সরবরাহের উপরেই ২১ জুলাইয়ের আগুনটা পড়ে।
➖
২২ জুলাই, আগুনের পরদিন, প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে বণিক বার্তার জ্বালানি নিরাপত্তা সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “গত ১৭ বছরে দেশে একটি গ্যাসকূপও খনন করা হয়নি। ফলে বর্তমানে পুরো দেশ আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।”
বাক্যটা আক্ষরিক অর্থে ভুল, আর খণ্ডনটা আছে মন্ত্রীর নিজের নথিতেই।
দুই সপ্তাহ আগে, ৮ জুলাই, তিনি নিজে সংসদে জানিয়েছেন, চলমান কর্মসূচিতে উনত্রিশটা কূপের কাজ শেষ, আটটা চলমান, লক্ষ্য ২০৩১ সালের মধ্যে দেড়শো।
ভূতত্ত্ববিদ বদরূল ইমামের হিসাবে ২০০০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অনুসন্ধান কূপ খোঁড়া হয়েছে ছাব্বিশটা। ওই সময়েই মিলেছে ভোলা নর্থ, জকিগঞ্জ আর ইলিশা।
ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস অবশ্য ওই ঊনত্রিশ কূপের হিসাবটা ভেঙে ছাপিয়েছে। নতুন কূপ আসলে পনেরোটা, বাকি চৌদ্দটা পুরনো কূপের মেরামত। চার বছরে উৎপাদনে যোগ হয়েছে দিনে ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট, কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল ৩৫৩।
বাপেক্সের রিগ পাঁচটা, একসাথে চালানোর মতো ড্রিলিং ক্রু দুইটা। বাস্তব সক্ষমতা বছরে তিনটা কূপ। আর বাংলাদেশে আজ পর্যন্ত আবিষ্কৃত গ্যাসের নব্বই শতাংশের বেশি খুঁজে পেয়েছে বিদেশি কোম্পানি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান না।
গভীর সমুদ্রে বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত একটাও কূপ খোঁড়ে নাই। পুরো ইতিহাস মিলিয়ে অগভীর সমুদ্রে একুশটা, গভীরে শূন্য। স্বাধীনতার পর পঞ্চাশ বছরে মোট কূপ প্রায় একশোটা। ভারত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একাই খুঁড়েছে পাঁচশো পঁয়তাল্লিশটা।
১৯৯৮ সালের বিবিয়ানার পর উল্লেখযোগ্য আকারের কোনো ক্ষেত্রও মেলে নাই। সেই বিবিয়ানা আজ একাই দেয় দেশীয় উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক, আর বর্তমান হারে তার আয়ু ধরা হচ্ছে দশ বছর।
সংসদে জানানো হিসাবে দেশের উত্তোলনযোগ্য মজুত এ বছরের জানুয়ারিতে ৭.৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। বণিক বার্তা উৎপাদনরত ক্ষেত্রগুলির হিসাব করে লিখেছে, এই গতিতে তুললে ফুরাবে ২০৩৪-৩৫ সালে।
➖
গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এলএনজি আমদানিতে খরচ হয়েছে আটান্ন হাজার কোটি টাকা। দেশের মাটির নিচে গ্যাস খোঁজায় খরচ হয়েছে এক হাজার একশো উনত্রিশ কোটি, বণিক বার্তার হিসাব।
আমদানিতে যত, অনুসন্ধানে তার একান্ন ভাগের এক ভাগ।
পাঁচ বছর আগেও আমদানির বার্ষিক বিল ছিল সাড়ে ষোলো হাজার কোটি টাকা। আর ২০০০ সাল থেকে পঁচিশ বছরে দেশীয় অনুসন্ধানে গেছে মোট সাত হাজার কোটি।
আইইইএফএর হিসাবে চার বছরে প্রাথমিক জ্বালানিতে আমদানির ভাগ প্রায় অর্ধেক থেকে উঠেছে দুই-তৃতীয়াংশে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ ওই চার বছরেই বেড়েছে তিরাশি শতাংশ।
এদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির উন্নয়ন বরাদ্দ কমছে। তিন বছর আগে জাতীয় বাজেটের সাড়ে চার শতাংশের বেশি ছিল এই খাতে, চলতি বাজেটে দুই শতাংশেরও নিচে।
ডেইলি স্টার লিখেছে, কাটছাঁটের কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন বছরের পর বছরের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা আর বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তির কথা।
অনুসন্ধানের জন্য আলাদা একটা তহবিলও আছে।
গ্যাস উন্নয়ন তহবিল। টাকাটা আসে গ্রাহকের বিল থেকে। ২০০৯ সালে গ্যাসের দাম এগারো শতাংশ বাড়ানো হয়, আর ২০১৯ সালের বৃদ্ধির ভেতর থেকে ঘনমিটারপ্রতি ছিয়াল্লিশ পয়সা করে আলাদা করে রাখা হয় এই তহবিলে।
প্রতি মাসে যে মানুষটা গ্যাসের বিল দেয়, তহবিলটা তারই জমানো টাকা।
২০২১ সালের জুন পর্যন্ত জমেছিল ষোলো হাজার সাতশো ছিয়াত্তর কোটি টাকা।
২০১২ সালের বিধিমালায় লেখা আছে, এই টাকা খরচ করা যাবে কেবল দেশীয় কোম্পানির অনুসন্ধান আর উৎপাদনে। অন্য কিছুতে না।
২০২১ সালে পেট্রোবাংলা এই তহবিল থেকে তিন হাজার কোটি টাকা তুলে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়কে। পরের বছর, ২০২২ সালের ৬ জুলাই, সেই অর্থ মন্ত্রণালয়ই পেট্রোবাংলাকে দুই হাজার কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন করে। এলএনজি আমদানির জন্য।
দাম ঠিক করে যে সংস্থা, সেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের এক সদস্য প্রথম আলোকে বলেছেন, কমিশন এই ঋণের কথা জানেই না। অথচ বিধি বলছে, তহবিলের টাকা নাড়াতে কমিশনের সম্মতি লাগে।
গ্রাহকের বিল থেকে অনুসন্ধানের নামে তোলা টাকা ফেরত এসেছে আমদানির খরচ হয়ে, তা-ও ঋণ হিসেবে।
➖
সমুদ্রটা আদালতে জেতা হয়ে গেছে অনেক আগেই।
১৪ মার্চ ২০১২, হামবুর্গের আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনালে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রায় পায় বাংলাদেশ। ৮ জুলাই ২০১৪, হেগের স্থায়ী সালিসি আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে, বিরোধপূর্ণ এলাকার প্রায় ছিয়াত্তর শতাংশ।
দুই রায় মিলিয়ে হাতে আসে এক লাখ আঠারো হাজার আটশো তেরো বর্গকিলোমিটারের বেশি সমুদ্র। দেশের স্থলভাগের প্রায় চার-পঞ্চমাংশের সমান।
ওই সমুদ্র ভাগ করা হয় ছাব্বিশটা ব্লকে, এগারোটা অগভীর, পনেরোটা গভীর। নিচে কত গ্যাস থাকতে পারে, প্রাক্কলন সূত্রভেদে বিশ থেকে একচল্লিশ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। দেশ এখন নিজের মাটি থেকে যত গ্যাস তোলে, সেই হারে তিরিশ থেকে ষাট বছরের গ্যাস।
যদি থাকে।
স্থলভাগে শেষ দরপত্র ডাকা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। এরপর ঊনত্রিশ বছরে আর একটাও না।
২০০৮ সালে কনোকোফিলিপস চারটা ব্লক জিতে দুইটা পায়। ভূকম্পন জরিপ শেষ করে, একটা কূপও না খুঁড়ে ২০১৫ সালে চলে যায়।
২০১২ সালের রাউন্ডে সই হওয়া তিনটা অগভীর চুক্তির একটাও টেকে নাই। সান্তোস সরে যায় ২০২০ সালে, ওএনজিসি একটা কূপ খুঁড়ে কিছু না পেয়ে চলে যায়। আর ২০১৯ সালের জন্য নতুন উৎপাদন-অংশীদারি চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছিল, দরপত্রই ডাকা হয় নাই।
তারপর ২০২৪ সালের ১০ মার্চ, আট বছর পর দরপত্র। চব্বিশটা ব্লক, পঞ্চান্নটা আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে আমন্ত্রণ, সময়সীমা বাড়িয়ে ৯ ডিসেম্বর।
দরপত্র জমা পড়ে শূন্যটা। সাতটা কোম্পানি কেবল নথি কিনেছিল।
অথচ উপাত্ত তৈরিই ছিল। টিজিএস আর শ্লুমবার্জারের যৌথ জরিপে চব্বিশটা ব্লকের পুরোটা ঢেকে ভূকম্পন উপাত্ত বানানো শেষ হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। সেই উপাত্ত হাতে নিয়েই দরপত্র ডাকা হয়েছিল।
বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোরকে বলেছেন, “বত্রিশ হাজার লাইন কিলোমিটার জরিপ করেছি, ডজনখানেক কূপ খুঁড়েছি। ওই ড্রিলিং আর লগিং ডেটা আমরা নিজেরাই ঠিকমতো বিশ্লেষণ করি নাই।”
বুয়েটের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ইজাজ হোসেন একই প্রতিবেদনে বলেছেন, কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে জবাবদিহির ভয়ে চুক্তি সইয়ের দায়ই নিতে চান না।
➖
একই উপসাগরের ওপারে হিসাবটা অন্যরকম।
মিয়ানমারের শোয়ে ক্ষেত্র আবিষ্কার হয় ২০০৪ সালে, উৎপাদনে যায় ২০১৩ সালে। দৈনিক প্রায় সাতশো মিলিয়ন ঘনফুট, সমুদ্রতলের পাইপ ধরে আড়াই হাজার কিলোমিটার পেরিয়ে চীনের ইউনান পর্যন্ত। অপারেটর পস্কো, হাতে একান্ন শতাংশ।
সেই পস্কোই ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ডিএস-১২ ব্লক নিয়েছিল। ২০২০ সালে গ্যাসের দামে বনিবনা না হওয়ায় ছেড়ে চলে যায়।
বদরূল ইমাম বণিক বার্তাকে বলেছেন, “সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির পর মিয়ানমার গ্যাস পেয়েছে। ভারত বিশাল গভীর সমুদ্রের তেল আবিষ্কার করছে। এই দুইয়ের মাঝখানে বাংলাদেশের জলসীমা, যেখানে উল্লেখযোগ্য গ্যাসের সম্ভাবনা আছে। কিন্তু ওরা যখন প্রস্তুত, আমরা তখন না।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের মো. বদরুদ্দোজা মিয়া বিডিনিউজকে বলেছেন, “স্বীকার করতেই হবে। দেরি হয়ে গেছে। মিয়ানমার তো উৎপাদন করছেই।”
➖
সততার খাতিরে কয়েকটা কথা লেখা থাকুক।
প্রথমত, দেশীয় গ্যাস দিয়ে এখনকার চাহিদা মেটানো আর সম্ভব না, আর এটা কোনো বিরোধী পক্ষের কথা না। বুয়েটের অধ্যাপক এম তামিম ২৩ জুলাই ওই একই সম্মেলনে বলেছেন, “পূর্ণ জ্বালানি স্বনির্ভর হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নাই।”
আবিষ্কৃত মোট মজুতের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ ইতিমধ্যে তোলা হয়ে গেছে।
দ্বিতীয়ত, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার একশো দিনের মধ্যেই সমুদ্রে দরপত্র ডেকেছে, ২৪ মে ২০২৬। শর্তেও ছাড় দিয়েছে। ব্রেন্টের দশ শতাংশ দামে কোনো সিলিং নাই, শতভাগ ব্যয় পুনরুদ্ধার, সই বোনাস আর রয়্যালটি বাতিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগুনের পরদিনই বিজিএমইএ আর বিটিএমএ নেতাদের বলেছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পদক্ষেপ এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে দৃশ্যমান হবে, তৃতীয় এফএসআরইউয়ের সিদ্ধান্ত হবে এক মাসের মধ্যে, আর বন্ধ কারখানা চালাতে থাকবে বিশ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন সুবিধা।
২৮ জুলাই মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সাথে টেলিফোনে পেট্রোনাসের এলএনজি নিয়ে কথাও হয়েছে, যদিও সে আলাপের বিবরণ মিলেছে কেবল আনোয়ারের ফেসবুক পোস্টে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা আর মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকে এলএনজি আনার চেষ্টাও চলছে।
তৃতীয়ত, বকেয়ার বোঝাটা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া। মন্ত্রীর হিসাবে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের কাছে জমা দায় ছাপ্পান্ন হাজার কোটি টাকা, পেট্রোবাংলার নিজের বকেয়া আটাশ হাজার ষোলো কোটি।
তবে একই খতিয়ানে বাকিটাও লেখা থাকুক।
তৃতীয় এফএসআরইউয়ের নীতিগত অনুমোদন হয়েছে ২৮ জুলাই, জায়গা কুতুবজোম, মহেশখালী। চুক্তি সরকার-থেকে-সরকার, চীনের একটা প্রতিষ্ঠানের সাথে, খোলা দরপত্র ছাড়া।
খরচ, সক্ষমতা আর সময়সীমা প্রকাশ করা হয় নাই।
আজ সই হলেও গভীর সমুদ্রের গ্যাস চুলায় আসতে লাগবে পাঁচ থেকে আট বছর। এই শীতে কোনো দরপত্র কারও রান্না বসাবে না।
আর ২৪ মে-র সেই দরপত্রে এখন পর্যন্ত পাঁচটা কোম্পানি কেবল ভূতাত্ত্বিক উপাত্ত কিনেছে। পাঁচটার একটা আবার অপারেটরই না, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান।
পেট্রোবাংলা এর মধ্যে সমুদ্র রেখে স্থলভাগের দরপত্রে জোর দিতে শুরু করেছে, কারণ হিসেবে বলছে, সমুদ্রের ব্লকে বিনিয়োগকারীর আস্থা জাগানোর মতো যথেষ্ট ভূতাত্ত্বিক উপাত্তই নাই।
➖
৩ আগস্টের খবর, একটা বয়লারের চূড়ান্ত পরীক্ষা চলছে, চালু হলে ফিরবে দিনে প্রায় তিনশো মিলিয়ন ঘনফুট।
মন্ত্রী ২৭ জুলাই বলেছিলেন, স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও দশ-পনেরো দিন। ঢাকা ট্রিবিউন কর্মকর্তাদের বরাতে লিখেছে, মেরামতের পরেও দিনে দুইশো-আড়াইশো মিলিয়ন ঘনফুটের কাঠামোগত ঘাটতি থেকেই যাবে।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. আবদুল মান্নান ২৬ জুলাই তারিখ বলতে রাজি হন নাই, বলেছেন, “আমরা যত দ্রুত সম্ভব একটা বয়লার চালুর চেষ্টা করছি।” তিনি এই পদে বসেছেন ১৭ মে, তার আগের জন ছিলেন তিন মাস। এক বছরে তিনজন চেয়ারম্যান।
সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ৪ আগস্ট ডেইলি স্টারকে বলেছেন, টার্মিনাল ঠিক হলে “আগের ঘাটতির অবস্থাতেই ফেরা যাবে, কাঠামোগত সমস্যার সমাধান হবে না।”
এক্সেলারেট মেরামতের জন্য সময় চেয়েছে ১০ আগস্ট পর্যন্ত। মাতারবাড়ীর স্থলভিত্তিক টার্মিনালের পরামর্শক খোঁজার আগ্রহপত্রেরও শেষ তারিখ ১০ আগস্ট। একই দিনে পড়েছে একটা বয়লার সারার প্রতিশ্রুতি, আর বারো বছরের পুরনো নকশার নতুন কাগজ।
আর ৩০ নভেম্বর, জেতা সাগরের ছাব্বিশটা ব্লকের দরপত্র জমার শেষ দিন। নথি এখনো কেউ কেনে নাই।