জায়নবাদের আসল চেহারা
কিছু ভাষ্যকারের চোখে, এখন যা ঘটছে তা আসলে জায়নবাদের নিজের আসল, আধিপত্যবাদী চেহারারই উন্মোচন। আর এই তালিকায় আছেন খোদ মোশে ইয়ালনও, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত নেতানিয়াহুর অধীনে যিনি ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
ওয়াইনেটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়ালন বলেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ধর্মীয় জায়নবাদী আন্দোলনের ভেতরের কিছু অংশ আসলে ধারণ করে একধরনের “ইহুদি আধিপত্যবাদী মতাদর্শ”।
ইয়ালনের ভাষায়, ইহুদি আধিপত্যবাদ আসলে কী? হলোকাস্টের আশি বছর পর, এটা যেন হিটলারের “মাইন কাম্পফ”-এরই উলটো সংস্করণ, শুধু এবার “শ্রেষ্ঠ জাতি” হিসেবে বসানো হচ্ছে আমাদেরই।
ইহুদি আধিপত্যবাদ এখন ইসরায়েলের মূলধারার রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রেই চলে এসেছে। নেতানিয়াহুর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নাফতালি বেনেট ইরান আর ফিলিস্তিনিদের নিয়ে যেভাবে কথা বলেন, শুধু সেটাই একবার শুনে দেখুন। অথবা ইসরায়েলি ইহুদিরা সাধারণভাবে ফিলিস্তিনিদের নিয়ে যেভাবে কথা বলেন, সেটাও।
ইসরায়েলের সঙ্গে ট্রাম্পের এই বিরোধের পেছনে আসলে হয়তো একটাই কারণ, নতুনত্বের ধাক্কা। এই ধাক্কাটা আসছে এই কারণে যে, যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে বলছেন যুদ্ধ বন্ধ করতে। এটা ঠিক সেই ধরনের ধাক্কা, যা একটা বসতি-উপনিবেশ অনুভব করে যখন সে বুঝতে পারে তার নিজের জন্মদাতা রাষ্ট্রের ওপরই তার আর নিয়ন্ত্রণ নেই।
অনুরূপ একটা ধাক্কা আলজেরিয়ার “পিয়েদ নোয়ার” সম্প্রদায়ও অনুভব করেছিল। ১৯৫৮ সালে শার্ল দ্য গলকে ক্ষমতায় বসাতে তারাই সাহায্য করেছিল, অথচ পরে দেখেছিল সেই ফরাসি প্রেসিডেন্টই ঘুরে গিয়ে সমর্থন দিলেন আত্মনিয়ন্ত্রণ আর আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পক্ষে।
অথবা ধরুন উত্তর আয়ারল্যান্ডের ইউনিয়নবাদী সম্প্রদায়ের সেই ক্ষোভের কথা, যখন তাদেরই সবচেয়ে বড় ইউনিয়নবাদী নেত্রী, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার, স্বাক্ষর করেছিলেন অ্যাংলো-আইরিশ চুক্তি, যা ডাবলিনকে শান্তি প্রক্রিয়ায় মতামত দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
➖
বিষাক্ত সুনামি
ইসরায়েলের ভেতরে যা কিছুই ঘটুক না কেন, তার একটা সত্যিকারের বিষাক্ত প্রভাব পড়ছে আটলান্টিকের ওপারের জনমতের ওপর।
এটা বাড়িয়ে বলা হবে না যে, গাজায় গণহত্যা, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যর্থ যুদ্ধ, আর সিরিয়া, দক্ষিণ লেবানন, গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারে ইসরায়েলের অস্বীকৃতি, এই সব মিলিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের প্রতি একটা পুরো প্রজন্মের সমর্থন কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
পিউ রিসার্চের তথ্য বলছে, রিপাবলিকান আর ডেমোক্র্যাট, দুই দলের ক্ষেত্রেই পঞ্চাশ বছরের কম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের বেশিরভাগই এখন ইসরায়েল আর নেতানিয়াহু সম্পর্কে নেতিবাচক মত পোষণ করেন। আঠারো থেকে ঊনপঞ্চাশ বছর বয়সী রিপাবলিকানদের মধ্যে এখন ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব পোষণকারীর হার সাতান্ন শতাংশ, গত বছর যা ছিল পঞ্চাশ শতাংশ।
সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ষাট শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আছে, গত বছরের তিপ্পান্ন শতাংশ থেকে যা বেড়েছে। আর ঊনষাট শতাংশ মানুষ মনে করেন, বিশ্ব-বিষয়ক সিদ্ধান্তে নেতানিয়াহুর সঠিক কাজ করার সামর্থ্যের ওপর তাদের সামান্যই আস্থা আছে, বা কোনো আস্থাই নেই, গত বছর যে হার ছিল বাহান্ন শতাংশ।
চলার গতিপথটা স্পষ্ট।
তবে জনমতের এই পরিবর্তন রাজনৈতিক অর্থে ঠিক কী বোঝায়, আর কখন এটা নীতিগত পরিবর্তনের মতো কিছুতে রূপ নেবে, তা নিয়ে ঐকমত্য কম।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি প্রবাসী জনগোষ্ঠীর ঠিকানা নিউ ইয়র্কেই সম্প্রতি তিনজন সাবেক ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান নিজেদের আসন হারিয়েছেন, আর মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থিত প্রার্থীরা জিতে নিয়েছেন পাঁচটা স্থানীয় আসন।
এর কিছুদিন পরই আইনজীবী ও পিএইচডি শিক্ষার্থী মেলাত কিরোস প্রতিষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটদের জন্য এক বিস্ময়কর ধাক্কা দিয়ে কলোরাডোর প্রথম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে বিজয়ী ঘোষিত হন, যে জেলার মধ্যে পড়ে রাজ্যের রাজধানী ডেনভারও।
কিরোস হারিয়ে দেন ডায়ানা ডিগেটকে, যিনি ক্যাপিটল হিলে কাটিয়েছিলেন তিন দশক, আর আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা অ্যাইপ্যাক থেকে পেয়েছিলেন ষোল লাখ ডলারের বেশি।
জিউইশ ভয়েস ফর পিস-অ্যাকশন বলেছে, এই নির্বাচনের ফল প্রমাণ করে দিয়েছে, ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরে অ্যাইপ্যাক এখন একটা “বিষাক্ত ব্র্যান্ড”-এ পরিণত হয়েছে, আর যেসব আইনপ্রণেতা গণহত্যাকে সমর্থন বা রক্ষা করেন, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা তাদের ওপর ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
এটা নিঃসন্দেহে অ্যাইপ্যাকের জন্য একটা পরাজয়।
ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের সমালোচক তিনজন প্রার্থীই হারিয়ে দিয়েছেন অ্যাইপ্যাক-সমর্থিত প্রতিদ্বন্দ্বীদের।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই ফলাফল কি সত্যিকারের কোনো ফিলিস্তিনপন্থী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, নাকি এটা নিছক ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরে উদারপন্থী জায়নবাদীদের নতুন করে জায়গা করে নেওয়া, শুধু অ্যাইপ্যাকের অনুমোদন ছাড়াই? দলটা কি আসলে নেতানিয়াহু-পরবর্তী এক যুগের জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন আবারও ব্যবস্থার ভেতরেই গেঁথে যাবে?
বিজয়ীদের একজন ছিলেন ব্র্যাড ল্যান্ডার, যিনি জিতেছেন নিউ ইয়র্কের দশম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রাইমারিতে।
ল্যান্ডার আগে মেয়র পদের জন্য লড়েছিলেন, পরে সরে গিয়ে মামদানিকে সমর্থন দেন। এক সময় তিনি বিডিএস আন্দোলনের (ইসরায়েল বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞার আন্দোলন) বিরোধিতা করতেন। নিউ ইয়র্ক সিটির কম্পট্রোলার থাকার সময় তিনি শহরের পেনশন তহবিলের টাকা আরও বেশি করে ঢেলেছিলেন ইসরায়েলি অস্ত্র কোম্পানি এলবিট সিস্টেমসে। নিজেকে তিনি পরিচয় দেন একজন উদারপন্থী জায়নবাদী হিসেবে।
স্টকটন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাজিয়া কাজি এমইইকে বলেন, একটা জিনিস দেখে তিনি সত্যিই ধাক্কা খেয়েছেন। যেসব কর্মী এলবিট সিস্টেমসের কার্যক্রম বন্ধ করতে আন্দোলন করেছেন, তারা এখন রাষ্ট্রের সবচেয়ে কঠোর দমননীতির শিকার হচ্ছেন। অথচ সেই একই আন্দোলনের কিছু মানুষকেই দেখা যাচ্ছে ল্যান্ডারের জয় উদযাপন করতে, যিনি নিজেই একসময় এলবিটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এই স্ববিরোধিতাটাই তার কাছে সবচেয়ে অস্বস্তিকর লেগেছে।
কিরোসের জয়ের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এক্সে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে লেখেন, স্রোত ঘুরে যাচ্ছে, আমেরিকানরা এখন স্থিতাবস্থার রাজনীতিতে ক্লান্ত।
মামদানি নিজে বলেছেন, এটা শ্রমজীবী মানুষের জয়, যা গত বছরের এক জরিপের ফলাফলকেই সমর্থন করে, যেখানে দেখা গিয়েছিল ভোটাররা মূলত প্রভাবিত হন দেশের ভেতরের অর্থনৈতিক উদ্বেগ, সাশ্রয়ী আবাসন, আর জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে চিন্তা থেকে।
তবে বিজয়ী প্রার্থীরা নিজেদের বক্তব্যে দেশের ভেতরের সমস্যা আর গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবি, দুটোকেই উপস্থাপন করেছেন একসঙ্গে, একটা প্যাকেজ হিসেবে। স্থিতাবস্থার বিরুদ্ধে তাদের চ্যালেঞ্জ ছিল দুই ফ্রন্টেই।
➖
দীর্ঘ এক যাত্রা
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল লেভির চোখে, ইসরায়েলের প্রতি নিজের সমর্থন নতুন করে ঠিক করার এই যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো শুরুর দিকেই আছে। লেভি নিজে ইউএস/মিডল ইস্ট প্রজেক্টের প্রধান।
তার ভাষায়, ডেমোক্র্যাট দলের ভেতরের এই আন্দোলন আসলেই ক্ষমতার দিকে এগোতে পারবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট না। এই পরিবর্তন আনতে গিয়ে হয়তো তাদের নিজেদের ভেতরের অনেক অস্বস্তিও চেপে রাখতে হবে। আর এই পরিবর্তন যতটা দ্রুত হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে অনেক ধীরেই হবে।
সামনে বিশাল সুযোগ অপেক্ষা করছে বলে তিনি মনে করেন, আর নিজেও চান এই পরিবর্তনটা সত্যিই ঘটুক। কিন্তু এখনো তা বাস্তবে দেখা যায়নি। এর পেছনে তিনটা কারণ আছে। এক, প্রতিষ্ঠিত লবির প্রতিরোধ এখনো অনেক শক্তিশালী। দুই, নিজেদের পক্ষেও ভুল করার আশঙ্কা থেকে যায়। তিন, এই পরিবর্তনের পেছনে চালিকাশক্তি হয়ে ওঠার মতো কোনো সংগঠিত ফিলিস্তিনি মুক্তি আন্দোলন এখনো নেই। এই তিনটা মিলিয়েই বলা যায়, পরিবর্তনটা এখনো আসেনি।
তারপরও এটা সত্যি যে, যুক্তরাষ্ট্রের জনমতে একটা সত্যিকারের পরিবর্তন ঘটেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটা হলো, ফিলিস্তিন প্রসঙ্গটা রাজনীতির প্রান্ত থেকে সরে এসে মূলধারার আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে।
একসময় যেটাকে বামপন্থীদের একান্ত নিজস্ব একটা উদ্বেগ বলে উড়িয়ে দেওয়া হতো, বা যা সীমাবদ্ধ থাকত ইসলামপন্থা বা সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে, সেটাই এখন এমন একটা বিষয়ে পরিণত হয়েছে, যা রাজনৈতিক মতাদর্শের সব ধরনের সীমানা ছাড়িয়ে গেছে।
এমনকি মার্কিন ডানপন্থার একটা অংশও এখন ইসরায়েলকে দেখতে শুরু করেছে ভিন্নভাবে, সম্পদ না ভেবে বরং বোঝা হিসেবে। এর একটা বড় কারণ ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আচরণ।
শিশুসহ বেসামরিক মানুষের ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রকাশ্য অবজ্ঞা, এসব দেখেই কিছু রক্ষণশীলের কাছে একটা প্রশ্ন দাঁড়িয়ে গেছে। ইসরায়েলকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন করাটা কি আসলে আমেরিকার নিজের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে যায়? এই প্রশ্নের উত্তর মেলানোটাই তাদের কাছে এখন ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
কারো কারো কাছে ইসরায়েল থেকে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করাটাই হয়ে উঠেছে আমেরিকার নিজস্ব প্রকল্পটাকে পুনরুদ্ধারের একটা উপায়।
তবে ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ মূলধারায় জায়গা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে নতুন কিছু সীমারেখাও। আলোচনার পরিসর বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু রক্ষণশীল আর প্রগতিশীল, দুই ধরনের মহলেই তা এখনো বেশ কড়াভাবে নিয়ন্ত্রিত।
অ্যাইপ্যাকের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করাটা ক্রমশ গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে, কারণ এভাবে আলোচনা করলে আমেরিকানরা পুরো সমস্যাটাকেই একটা শক্তিশালী লবির অতিরিক্ত প্রভাবের প্রশ্ন হিসেবে সাজাতে পারেন।
তবে আপাতত অন্তত এই আলোচনার সীমারেখা স্পষ্ট, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, বা ফিলিস্তিনি সংগ্রামের পেছনের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা, এসব বিষয় এখনো “শোভন আলোচনা”-র সীমানার প্রায় বাইরেই থেকে যাচ্ছে।
আমেরিকা হয়তো এমন এক পথে হাঁটছে, যা ধাপে ধাপে এগোবে, প্রথমে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগের প্রতি সহানুভূতি বাড়বে, আর চিরস্থায়ী যুদ্ধে লিপ্ত ইসরায়েলের প্রতি বৈরিতাও বাড়বে।
এর পরিণতিতে মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলের সেই “ব্যতিক্রমী মর্যাদা”র অবসান ঘটবে, আর শেষমেশ ফিলিস্তিনিদের পূর্ণ অধিকারের স্বীকৃতিও আসবে। এটা অর্জন করতে হয়তো লাগবে বেশ কয়েকটা নির্বাচনী চক্র।
কিন্তু নেতানিয়াহুর জন্য, বা তার পরে যিনিই আসুন না কেন, আমেরিকার ডানপন্থার কাছে ইসরায়েলকে আবার প্রাসঙ্গিক করে তোলাটা মোটেও সহজ কাজ হবে না। ইরানের ব্যাপারে হাত-পা বাঁধা পড়লেও লেবানন আর সিরিয়ায় নিজেদের দখল করা ভূখণ্ড ধরে রাখার অনুমতি পাওয়া নেতানিয়াহুর প্রতিক্রিয়া হবে গাজার পুরোটা দখল করতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করা।
তাকে এটা করতেই হবে, যদি তিনি নিজের মন্ত্রিসভায় আর নির্বাচনী প্রচারণায় চরম ডানপন্থীদের পাশে ধরে রাখতে চান। কিন্তু গাজায় নতুন করে হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বর্ণালির দুই প্রান্তেই এর প্রতি ঘৃণার অনুভূতি আরও বাড়বে।
এই যুদ্ধকে ইসরায়েলের নিজস্ব “নাইন-ইলেভেন” হিসেবে দেখানোর চেষ্টাটা ইতিমধ্যে করা হয়ে গেছে। কিন্তু তাতেও কাজ হচ্ছে না পুরোপুরি। এমনকি টাকার কার্লসনের মতো রিপাবলিকানরাও এখন সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। গোটা ইসলামকে একটা অস্তিত্বগত শত্রু হিসেবে দেখানোর যে চেষ্টা হয়েছিল, তারা এখন সেটাকেই একটা বড় ভুল বলে মনে করছেন।
আপাতত এই সংকট থেকে বেরোনোর কোনো সহজ পথ নেই। ইসরায়েলপন্থী লবি সহজে হার মানবে না, মার্কিন রাজনীতিতে তারা কঠিনভাবে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে।
কিন্তু একটা জিনিস স্পষ্ট। ইসরায়েলকে সমর্থন করাটা যদি ক্রমশ জোর করে টিকিয়ে রাখা একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়, বিশ্বাস থেকে না আসে, তাহলে জায়নবাদের সংকট আরও গভীর হতে থাকবে।
— ডেভিড হার্স্ট
এডিটর ইন চিফ, মিডল ইস্ট আই