আটলান্টায় আর্জেন্টিনা-মিশরের একটা সাধারণ শেষ-ষোলো ম্যাচ কীভাবে টেনে আনল আর্জেন্টিনা-ইসরায়েল সম্পর্ক, ফিফার দীর্ঘদিনের পক্ষপাতিত্ব, আর বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি প্রভাবের গোটা একটা রাজনীতিকে, তার বিস্তারিত বিবরণ
আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ ঘিরে এখন একসঙ্গে আলোচনায় তিনটা প্রসঙ্গ। এক, আর্জেন্টিনা-ইসরায়েল সম্পর্কের ইতিহাস। দুই, ফিফার প্রাতিষ্ঠানিক পক্ষপাতিত্ব। তিন, এই বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি প্রভাব কীভাবে খেলাকেই গ্রাস করে ফেলেছে সেই প্রশ্ন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত কয়েক দিনে বিশ্ব ফুটবল সাংবাদিকতা আর সামাজিক মাধ্যম দখল করে রেখেছে কয়েকটা পরস্পর-সংযুক্ত প্রসঙ্গ।
ফিফা কীভাবে ইরানের জাতীয় দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে, মিশরের কোচ হোসাম হাসান কীভাবে নিজের অবস্থান ব্যবহার করেছেন ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলতে, আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত কীভাবে মিশরকে ছিটকে দিয়েছে টুর্নামেন্ট থেকে।
আর ম্যাচের ঠিক আগে গাজায় একজন ত্রাণকর্মী কীভাবে নিহত হয়েছেন, যিনি সেই ম্যাচ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করছিলেন গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষদের জন্য।
প্রতিটা ঘটনা আলাদা আলাদাভাবে আলোচিত হয়েছে। কিন্তু একসঙ্গে দেখলে এগুলো একটা বড় প্রশ্ন তুলে ধরে। ফুটবলের “রাজনীতিমুক্ত” থাকার যে দাবি, তার আসল রূপ কী?
আর্জেন্টিনা লাতিন আমেরিকার প্রথম দেশ যারা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়, ১৯৪৯ সালে পেরনের আমলে। প্রথম যাদের ইসরায়েলে দূতাবাস ছিল, তারাও আর্জেন্টিনাই। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠীও সেখানে। এই ঘনিষ্ঠতার কারণে সমালোচকরা মাঝেমধ্যে আর্জেন্টিনাকে “দক্ষিণ আমেরিকার ইসরায়েল” বলে ডাকেন। এটা কোনো আনুষ্ঠানিক পরিচয় না, একটা কটাক্ষ।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই নিজেকে দাবি করেন “সবচেয়ে জায়নবাদী প্রেসিডেন্ট” বলে। তার আমলে চালু হয়েছে “আইজ্যাক অ্যাকর্ডস” নামের একটা প্রকল্প, আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের আদলে, লাতিন আমেরিকা-ইসরায়েল সম্পর্ক গভীর করতে। দূতাবাস জেরুজালেমে সরানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করেছেন।
২০২৫ সালে হয়েছেন প্রথম অ-ইহুদি রাষ্ট্রপ্রধান যিনি ইসরায়েলের জেনেসিস পুরস্কার পান। এই বছরের ইরান-যুদ্ধেও দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে।
এই ঘনিষ্ঠতার একটা পুরনো ক্ষতও আছে। ১৯৯২ আর ১৯৯৪ সালে বুয়েনস আইরেসে ইসরায়েলি দূতাবাস আর আমিয়া ইহুদি কেন্দ্রে বোমা হামলা হয়েছিল, হেজবুল্লাহ-সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত করা হয় যাকে। এই ট্রমাই আজকের আর্জেন্টাইন নেতাদের “আত্মরক্ষার” আখ্যান তৈরির একটা বড় উপকরণ।
তবে সম্পর্কটা সবসময় একরৈখিক ছিল না, এটাও মনে রাখা দরকার। ২০০৭ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কির্চনার সরকারের আমলে আর্জেন্টিনা বরং ইরানের সঙ্গেই আমিয়া মামলা নিয়ে একটা সমঝোতা স্মারক সই করেছিল। ইহুদি সংগঠনগুলো তখন তীব্র বিরোধিতা করেছিল এর। অর্থাৎ মিলেই-পূর্ব যুগে আর্জেন্টিনা-ইসরায়েল সম্পর্ক আজকের মতো এতটা টানটান ছিল না।
আর্জেন্টিনাকে নিয়ে আরেকটা জটিলতাও আছে, যা বাদ দিলে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। দিয়েগো মারাদোনার মতো চরিত্র আর্জেন্টিনা থেকেই উঠে এসেছিলেন, প্রতিষ্ঠানবিরোধী, বর্ণবাদবিরোধী এক প্রতীক হিসেবে যাকে মনে রাখা হয়। কিন্তু জাতি হিসেবে আর্জেন্টিনার বর্ণবাদের ইতিহাস দীর্ঘ আর নথিভুক্ত।
এই বিশ্বকাপেই তার তাজা প্রমাণ মিলেছে। জনপ্রিয় মার্কিন স্ট্রিমার আইশোস্পিড, যিনি কৃষ্ণাঙ্গ, আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে এক সমর্থকের কাছ থেকে বর্ণবাদী মন্তব্য শোনেন, “চিড়িয়াখানায় গিয়ে কাঁদো” জাতীয় কথা। পরে আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচেও তার দিকে বানরের মতো ভঙ্গি করে বর্ণবাদী উসকানি দেওয়া হয়। ফিফা দুটো ঘটনাতেই তদন্ত শুরু করেছে। অর্থাৎ যে ফুটবল-সংস্কৃতি থেকে মারাদোনার মতো বিদ্রোহী চরিত্র জন্ম নেয়, সেই একই সংস্কৃতির ভেতরেই বর্ণবাদের সহাবস্থান আছে।
এই বিশ্বকাপে ইরানের অভিজ্ঞতা শুরু থেকেই ছিল অস্বাভাবিক। প্রথমবারের মতো কোনো দেশ এমন একটা বিশ্বকাপে খেলছিল, যে দেশের সঙ্গে তারা কার্যত যুদ্ধে জড়িয়ে ছিল।
ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের প্রশিক্ষণ ঘাঁটি অ্যারিজোনার টুকসন থেকে সরিয়ে নিতে হয় মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতিসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাকে ভিসাই দেওয়া হয়নি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচের পরের ঘটনাটা বিষয়টা আরও স্পষ্ট করে। ২-২ ড্র হওয়া সেই ম্যাচের পরপরই ইরানি দলকে জানানো হয়, তাদের সঙ্গে সঙ্গে তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে। রাতটাও ক্যালিফোর্নিয়ায় থেকে শরীর সারিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
কোচ আমির ঘালেনোয়ি এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, তার দলই সম্ভবত পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল। খেলোয়াড়দের একাধিকবার বদলি করতে হয়েছিল পায়ে খিঁচুনির কারণে, যা মূলত এই বিশৃঙ্খল ভ্রমণ-সূচিরই ফল। অধিনায়ক মেহদি তারেমি সরাসরি ফিফার কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন।
এখানে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেরও একটা বক্তব্য আছে, সেটাও রাখা দরকার। হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সের কর্মকর্তা এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ৩১ জন খেলোয়াড়সহ সবাইকে ভিসা দেওয়া হয়েছিল, তাই এই আচরণ ন্যায্যই ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর মিশরের কোচ হোসাম হাসান মাঠে নেমেছিলেন ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে নিয়ে। জয়টা উৎসর্গ করেছিলেন গাজার “সব শহীদের” প্রতি।
আর্জেন্টিনা ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তিনি চার মিনিটেরও বেশি সময় কথা বলেন ফিলিস্তিনের দুর্দশা নিয়ে। বলেন, যে মানুষ ফিলিস্তিনিদের জন্য কষ্ট অনুভব করে না, আরব হোক বা ইউরোপীয় বা আমেরিকান, সে আসলে মানবতার একটা অংশ হারিয়ে ফেলেছে।
ফুটবলকে “নরম শক্তি” আখ্যা দিয়ে অনুরোধ করেন ফিফা আর খেলোয়াড়দের, এই মঞ্চ ব্যবহার করে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলতে।
গাজায় এর প্রতিক্রিয়া ছিল ব্যাপক। মিশরের ত্রাণ সহায়তায় গঠিত একটা কমিটি গাজার বিভিন্ন বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরে বড় পর্দায় মিশরের খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করছিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত জীবনের মধ্যে সাময়িক একটা স্বস্তির জায়গা হিসেবে।
এর ঠিক বিপরীত দৃশ্যও ছিল। তেল আবিবে আর্জেন্টিনার প্রবাসী সমর্থকরা নিয়মিত ওয়াচ পার্টি করেছেন পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে। ইসরায়েলের বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা আর বিভিন্ন দেশে থাকা ইসরায়েলি দূতাবাসগুলোও সামাজিক মাধ্যমে আর্জেন্টিনার প্রতি সমর্থন জানিয়ে পোস্ট দিয়েছিল ম্যাচের আগে।
দুটো দৃশ্য পাশাপাশি রাখলে একটা স্পষ্ট বৈসাদৃশ্য চোখে পড়ে। একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় মানুষ বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজছে একটা ফুটবল জয়ে। আরেকদিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেই একটা দলকে ঘিরে সংগঠিত সমর্থন প্রকাশ পাচ্ছে।
খেলাটা শুরু হয় মিশরের দাপটে। ইয়াসের ইব্রাহিম আর মোস্তফা জিকোর গোলে মিশর ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এটা হতে পারত মিশরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ঘটনা।
কিন্তু ৬২ মিনিটে জিকোর একটা দ্বিতীয় গোল ভিএআরের হস্তক্ষেপে বাতিল হয়ে যায়। রিপ্লেতে দেখা যায়, মিশরের মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনে ধরেছিলেন, আর একই সঙ্গে তার পায়ে পাড়াও দিয়েছিলেন, গোলের বিল্ড-আপের সময়।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সত্যিকারের মতভেদ আছে, এটা স্পষ্ট করে বলা দরকার। একদিকে সাবেক গোলরক্ষক রব গ্রিন বলেছেন এটা ভিএআরের এখতিয়ারেই পড়ে না। অ্যালান শিয়েরার বলেছেন হয় দুটোই ফাউল নয়তো কোনোটাই না। ইয়ান রাইট পরের একটা ঘটনার সঙ্গে তুলনা করে অসামঞ্জস্যের অভিযোগ তুলেছেন।
জোসে মরিনিও একে “প্রকাশ্য দিনের ডাকাতি” বলে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে দ্য ন্যাশনালের একটা বিশ্লেষণ যুক্তি দিয়েছে, রেফারির সিদ্ধান্তটা প্রযুক্তিগতভাবে সঠিক ছিল, জার্সি টানা আর পায়ে পাড়া দেওয়া দুটোই স্পষ্ট ফাউল। অর্থাৎ এই একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশেষজ্ঞমহলও দ্বিধাবিভক্ত।
ম্যাচের শেষ দিকে আরও দুটো ঘটনা বিতর্ক বাড়ায়। আর্জেন্টিনার বক্সে হামদি ফাতহি পড়ে গিয়েছিলেন আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের জার্সি-টানার পর, কিন্তু কোনো ফাউল দেওয়া হয়নি। একই মুহূর্তে মোহাম্মদ সালাহও পড়ে গিয়েছিলেন হুলিয়ান আলভারেসের সঙ্গে সংঘর্ষে, কিন্তু ভিএআর সেটা পর্যালোচনার জন্যই ডাকেনি।
এর কয়েক সেকেন্ড পরই এনজো ফের্নান্দেজের গোলে ৩-২ ব্যবধানে জিতে যায় আর্জেন্টিনা, শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে।
ঘটনাগুলোর প্রায় প্রতিটাতেই যে দলের পক্ষে সিদ্ধান্ত গিয়েছে, সেটা আর্জেন্টিনাই। এই প্যাটার্নটাই মিশরীয় শিবিরের ক্ষোভের মূল কারণ।
ঠিক এই ম্যাচ চলাকালীনই গাজায় ঘটে যায় আরেকটা ঘটনা। মোহাম্মদ ফাওয়াজ আল-ওয়াহিদি, মিশরের ত্রাণ কমিটির জনসংযোগ পরিচালক, যিনি নিজেই গাজায় এই ম্যাচ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করছিলেন, ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন গাজা শহরের সাবরা এলাকায়। তার সঙ্গে আরও দুজন বেসামরিক মানুষ, যাদের একজন শিশু, নিহত হন।
ম্যাচ শেষে হোসাম হাসান কোনো রাখঢাক না রেখে বলেন, এই ম্যাচ স্পষ্টভাবে “সাজানো” ছিল, পুরো বিশ্ব তা দেখেছে। প্রশ্ন তোলেন, আর্জেন্টিনাকে এত করে জেতাতে চাইলে বাকি সবাইকে খেলতে ডাকা হলো কেন।
মিশর ফুটবল সংস্থা ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে, রেফারি ফ্রঁসোয়া লেতেক্সিয়ে আর তার সহকারীদের বিরুদ্ধে। মিশরের সাবেক খেলোয়াড় মিদো মন্তব্য করেন, মিশর যদি সত্যিই আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দিত, তাহলে ফিফার জন্য সেটা কোটি কোটি ডলারের স্পনসরশিপ ক্ষতির কেলেঙ্কারি হয়ে যেত। ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, এই আর্থিক স্বার্থও হয়তো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও এই আলোচনায় জড়িয়ে পড়েন, যদিও প্রসঙ্গক্রমে, সরাসরি কোনো রাজনৈতিক বিবৃতি হিসেবে না। শহরের বাস সেবা দ্রুততর করার একটা কর্মসূচি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ বলে বসেন, সময় বাঁচানো মানে এটাও যে বন্ধুদের সঙ্গে একমত হওয়ার সময় পাওয়া যাবে যে মিশরকে “ঠকানো হয়েছে” গতকাল। উপস্থিত জনতা এতে হাততালি দেয়। মন্তব্যটা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে যায়।
এই একটা মন্তব্য ঘিরেও দুই রকম প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দক্ষিণপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এটাকে ব্যঙ্গ করে বলেছে মামদানি “ভিকটিম কার্ড” খেলছেন। অন্যদিকে ইসরায়েলপন্থী সংবাদমাধ্যম জেএনএস আরেকটা তথ্য যোগ করেছে তাদের প্রতিবেদনে, হাসান নিজে ম্যাচ চলাকালীন ইসরায়েলি পতাকা হাতে থাকা কিছু দর্শকের সঙ্গে বচসায় জড়িয়েছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী মন্তব্যের অভিযোগ তুলেছিলেন, যদিও তা প্রমাণিত হয়নি।
এই পুরো বিতর্ক এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এর ঠিক আগেই আরেকটা ফিফা-বিতর্ক নিয়ে আলোচনা চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের খেলোয়াড় ফোলারিন বালোগুনের একটা লাল কার্ড বাতিল হয়ে যায় ট্রাম্প সরাসরি ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনোকে ফোন করার পর, যাকে উয়েফা বলেছে “অযৌক্তিক” সিদ্ধান্ত।
এই দুটো ঘটনা একসঙ্গে দেখে অনেক বিশ্লেষকই প্রশ্ন তুলছেন, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক চাপ ফিফার সিদ্ধান্তে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলছে, শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রসঙ্গেই না, সামগ্রিকভাবেই।
মিশরের এই বিদায় তাই নিছক একটা খেলার ফলাফল হয়ে থাকেনি। এটা পরিণত হয়েছে বিশ্বজুড়ে একটা বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, যেখানে প্রশ্ন উঠছে ফিফা, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, আর ইসরায়েলের মধ্যেকার সম্পর্কের স্বচ্ছতা নিয়ে।
এই প্রতিবেদনটি আল জাজিরা, এনবিসি নিউজ, সিএনএন, ইএসপিএন, নোভারা মিডিয়া, দ্য নিউ আরব, জেএনএস, ফক্স নিউজসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি। বিতর্কিত বিষয়গুলোতে (যেমন ভিএআর সিদ্ধান্তের ন্যায্যতা, আল-ওয়াহিদি হত্যার উদ্দেশ্য) বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পাশাপাশি রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
